• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ভৈরবে মোটরসাইকেল চুরির মহোৎসব, চারদিকে আতঙ্ক

গেল ৬ মাসে প্রায় ৩০টির বেশি মোটরসাইকেল চুরি হয়

মো. আল আমিন টিটু, ভৈরব
|  ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:১৯ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৪০
কিশোরগঞ্জের বন্দর নগরী ভৈরবে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুধু মাত্র গেল সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩টি মোটরসাইকেল চুরি হয়। আর গেল ৬ মাসে চুরি হয় অন্তত ৩০টির বেশি মোটরসাইকেল। পুলিশ কিংবা সাংবাদিক চোরের হাত থেকে রেহায় পায় না কোনও মোটরসাইকেল।

whirpool
তবে এসব ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত মাত্র দু’টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারলে অধিকাংশ মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারেনি তারা। তাছাড়া সংঘবদ্ধ চোরাই দলের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফলে শত শত মোটর সাইকেল মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

জানা গেছে, শহরের রানী বাজার থেকে গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মুন্না নামে এক শিক্ষার্থীর ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেডএফ (১৫০সিসি) একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর দু’দিন আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে শহরের নিউ টাউনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম রুজেনের বাজাজ কোম্পানির (১২৫ সিসি) একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এছাড়াও এর ৬দিন আগের বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের ভিআইপি প্লাজা এলাকা থেকে সাংবাদিক আলহাজ সজিব আহমেদের বাজাজ কোম্পানির (১৫০ সিসি) একটি পালসার চুরি হয়। 

এর আগে বিএডিসি গুদাম রক্ষক আতাউর রহমানের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এছাড়াও আগানগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদের হিরো কোম্পানির (১৫০ সিসি) এফজেড চানপুর থেকে ছিনতাই হয়। আর গেল মার্চের শেষের দিকে খোদ ভৈরব থানা কমপ্লেক্সের ভেতর থেকেই সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ইসলাম শ্যামলের সুজুকি কোম্পানির (১৬০) সিসি একটি মোটরসাইকেলটি কেনার মাত্র একদিন পর চুরির অভিযোগ ওঠে। এর আগেও তার আরেকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুধু তাই নয়, থানা কমপ্লেক্সে ভেতর থেকে এসআই অভিজিৎ এর ইয়ামাহা ফেজার মডেলের (১৫০ সিসি) একটি মোটরসাইকেলও চুরির হয়। 

তাছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও শহরের আবেদীন হাসপাতালের সামনে থেকে ১টি, সালাম মেডিকেলের সামনে থেকে ২টি, কমলপুর থেকে ৩টিসহ অন্তত ২৫টির বেশি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এসব চুরির ঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও একটি মোটরসাইকেল বা চোরাই দলের কোনও এক সদস্যকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মোটরসাইকেল চুরি যাওয়া মালিকরা জানায়, প্রকাশ্য দিবালোকে কিংবা সন্ধ্যা বা রাতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ একটি সংঘবদ্ধ চক্র একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি করছে। তারা মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তালা বা লক ভেঙে মোটরসাইকেলগুলো নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কোনও কোনও চুরির ঘটনায় সিসি টিভির ফুটেজ থাকলেও পুলিশ চোরকে চিহ্নিত করতে পারছে না। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি। 

চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুজেন ও সাংবাদিক সজিব মনে করেন, বাসা-বাড়ি, উপজেলা, হাসপাতাল ও থানা থেকে একের পর এক বাইক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করতে পারেনি। সিসি টিভির ফুটেজ থাকলেও কাউকে চিহ্নিত করতে পারছে না। পুলিশের এমন অসহায়ত্বে কারণে শত শত মোটরসাইকেল মালিকদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।   

এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে এবং চক্রটিকে ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। এরই মধ্যে দু’টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী পাশ্বর্তি কুলিয়ারচর থানা পুলিশ গত শনিবার ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। এছাড়া এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জন চোরকে আটক করেছে পুলিশ। 
এই তথ্য নিশ্চিত করে কুরিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, মোটরসাইকেল চোরাই দলের সদস্য সাজন নামে একজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী বাজিতপুরের হুমায়ূনপুর লঞ্চঘাট থেকে এসব মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে আটক করা হয়। তাছাড়া উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর এখনো প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়নি। আশা করছি অচিরেই মালিক পাওয়া যাবো।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়