• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘ইউএনও স্যারের জন্যই আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে খুঁজে পেয়েছি’

কলমাকান্দা সংবাদদাতা
|  ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৯ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৫১
প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে কুলসুমা খাতুন (১৮) নামের এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন তার বাবা।

whirpool
গেল সোমবার বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে হারিয়ে যায় ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটি। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সহায়তায় ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ফিরে পান তার বাবা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সন্যাসীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৬) সোমবার বিকেলে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে যান। এরই একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রতিবন্ধী কুলসুমা হারিয়ে যায়। পরে হারিয়ে যাওয়া প্রতিবন্ধী মেয়েকে হন্য হয়ে খুঁজতে শুরু করেন মেয়েটির বাবা আব্দুর রশিদ। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মেয়েকে হারিয়ে ফেলার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরে ওই মেয়েটির বাবা ইউএনওর কাছে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে খোঁজে দিতে সাহায্য কামনা করেন। ইউএনও মো. জাকির হোসেন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একজন মাইকিং অপারেটরকে দিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেন। মাইকিংয়ের প্রেক্ষিতে উপজেলার উব্দাখালী নদীতে সাঁতার কাটা অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় লোকজন ওইদিন সন্ধ্যায় মেয়েটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও জাকির হোসেনের কাছে নিয়ে গেলে প্রতিবন্ধী ওই মেয়েটিকে তিনি বাবা আব্দুর রশিদের হাতে তুলে দেন ।

মেয়েটির বাবা আব্দুর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার অসহায় প্রতিবন্ধী মেয়েটি হারিয়ে যাওয়ার পর ইউএনও স্যারের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাইকিং করিয়ে আমার মেয়েকে খোঁজে বের করে আমার কাছে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।ইউএনও স্যারের জন্যই আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে খুঁজে পেয়েছি। তিনি আমার মতো গরিব মানুষের জন্য যে উপকারটুকু করেছেন এজন্য আমি ইউএনও স্যারের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে হারিয়ে যাওয়া প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে তার বাবার হাতে তুলে দিতে পেরে ভীষণ আনন্দ লাগছে। প্রতিটি মানুষকেই মানবিক হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসা উচিত।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়