• ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘আবদুল্লাহ পুলিশ ৩০ হাজার টাকা দিয়া মামলা খাইয়া ফালাইছে’

কলমাকান্দা সংবাদদাতা
|  ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৪৫
নেত্রকোনার কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের গৃহবধূ শারমিন আক্তারের (১৯) ওপর নির্যাতন মামলার আসামিরা এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিরা মামলার বাদী ও তার আত্মীয়-স্বজনকে প্রাণনাশসহ হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেয়ার জন্য। বাদীর মা নুরুন্নাহার বেগম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নেত্রকোনা বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বাদী ও তার স্বজনদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মো. আবদুল জলিলের ছেলে মো. রাজিব মিয়ার সঙ্গে গেল বছরের ৬ এপ্রিল একই ইউনিয়নের পাঁচকাটা গাছতলা গ্রামের মো. বাচ্ছু মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাজিব মিয়া বাবার বাড়ি থেকে আরও যৌতুক এনে দেয়ার জন্য স্ত্রী শারমিন আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। অনেক সময় নির্যাতন সইতে না পেরে শারমিন আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যেতেন। স্বামী ও শশুর-শাশুড়ি আর কোনও সময় নির্যাতন করা হবে না বলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শারমিনকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে শারমিন আক্তার আড়াই মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে যৌতুকের দাবিতে রাজিব বাড়ির অন্যদের সহযোগিতায় আবারও তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে রাজিব মিয়া ও বাড়ির অন্যরা গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় শারমিন আক্তারকে ঘরের মেঝেতে ফেলে রড, বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। সংবাদ পেয়ে গৃহবধূ শারমিনের মা নূরুন্নাহার বেগম মেয়েকে দেখতে গেলে তাকে যৌতুক দেয়ার কথা বলে। তা না হলে শারমিনকে নিয়ে ঘর সংসার করবে না বলে জানায় রাজিব মিয়া। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মা নুরুন্নাহার বেগম আহত মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় কিছু লোক চেষ্টা চালায়। এতেও কোনও কাজ হয়নি। পরে শারমিন আক্তার বাদী হয়ে গত ১১ মার্চ স্বামী রাজিব মিয়া, শাশুড়ি মোছা. ময়না খাতুন, শশুর আবদুল জলিল, আত্মীয় শাহজাহানের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উপরন্তু মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী ও তার আত্মীয় স্বজনদের প্রাণনাশসহ নানা হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় বাদীর মা নুরুন্নাহার বেগম গত ২১ মার্চ মেয়ে শারমিন, নিজের ও পরিবারের অন্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজিব মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। 

নূরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আবদুল্লাহ পুলিশ (অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য) সব কিছু করাইতাছে। সে বলেছে ৩০ হাজার টাকা দিয়া মামলা খাইয়া ফালাইছে। পুলিশ কিছুই করবে না এবং আসামিও ধরবে না।

কলমাকান্দা থানার এস.আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, মামলার আসামিরা কেউ এলাকায় নেই। ওরা বাড়ি-ঘর তালা লাগিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদেরকে ধরার জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না। পরের মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। 

কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল করিম জানান, ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি ও অন্যরা আত্মগোপন করেছে। গ্রেপ্তার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। হুমকি দেয়ার বিষয়টি জানা নেই।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়