• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

জবিতে বাম জোটের নেতাদের ওপর হামলা

জবি প্রতিনিধি
|  ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৮ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৯
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে; ছবি: আরটিভি অনলাইন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাম জোটের নেতারা অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (৭ এপ্রিল) দুপর সোয়া ২টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

whirpool
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে মুক্ত জ্ঞানচর্চা, ক্যাম্পাসে মৌলবাদ ঠেকানোসহ নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছিল বাম জোটের নেতারা। এমন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন উগ্র শিক্ষার্থী তাদের উপর অতর্কিত হামলা করেন। হামলায় আহত হন বাম জোটের ৬ জন নেতাকর্মী। এছাড়াও হামলার শিকার হন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৩তম ব্যাচের ফরহাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি করেন। এরই প্রতিবাদে রোববার জোহর নামাজের পরেই প্রতিবাদ মিছিল করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই বাম জোটের নেতারা মুক্ত জ্ঞানচর্চা, ক্যাম্পাসে মৌলবাদ ঠেকানোসহ নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে উপাচার্য ভবনের সামনে তারা বক্তব্য দিতে থাকলে তাদের উপর অতর্কিত হামলার করা হয়।

এতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন, বর্তমান সভাপতি তুর্য, ছাত্রফন্টের নেতা মুজাহিদ অনিক, সাকিব, হাসি ও আকাশ। আহতদের পার্শ্ববর্তী সুমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র থেকে দেখা যায়, হামলায় সরাসরি জড়িতরা প্রথমে এসে বাম জোটের নেতাদেরকে শাসাতে থাকেন এবং এখান থেকে চলে যেতে বলেই নাস্তিক নাস্তিক বলে তাদের উপর হামলা করেন।

হামলার সাথে জড়িতরা হলেন ছাত্রলীগকর্মী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের তৌসিব মাহমুদ সোহান, বাংলা ১১তম ব্যাচের তৌহিদুর রহমান পিয়াসসহ বেশ কয়েকজন।

হামলার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমরান বলেন, আমরা হামলায় জড়িত ছিলাম না। কারা করছে আমরা জানি না।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হামলার শিকার ছাত্র ইউনিয়নের এক নারীকর্মী বলেন, আমাদের উপর ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মী হামলা করেছে। এতে আমাদের ৩ জন নেতা-কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া আমাদের তিনজন নারী শিক্ষার্থীর উপরও হামলা করেছে তারা। হামলার শিকার নারীরা হলেন মৃত্তিকা, তিষা ও ফ্লোরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হামলাকারী পিয়াস ও সোহান এর আগেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল। নানা সময়ে সাংবাদিকের উপরও হামলা করেছে তারা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রফ্রন্টের নেতা মুজাহিদ অনিক বলেন, তারা মিছিল-সমাবেশ শেষ করলে আমরা আমাদের মতামত জানানোর জন্য মিছিল করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেলে ছাত্রলীগের কয়েকজন যৌথভাবে অতর্কিত হামলা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ভিডিও ফুটেজ থেকে আমরা তাদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে একজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়