• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

৫৭ পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা দুই নেতার পকেটে, ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

মাগুরা প্রতিনিধি
|  ০১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫৬
মাগুরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ওই কলেজের ৫৭ পরীক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়েছেন তারা। 

whirpool
পরীক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগ। 
গতকাল রোববার রাতে জেলা ছাত্রলীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

পরীক্ষার সুযোগবঞ্চিত মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন হোসেন শান্ত বলেন, ‘পরীক্ষার ফরম পূরণ করে দেয়ার কথা বলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা অমি এবং সাধারণ সম্পাদক ইমন শেখ আমিন আমার কাছ থেকে দুই দফায় ৮ হাজার ৩শ’ টাকা নিয়েছে। কিন্তু তারা আমার ফরম পূরণ না করে সব টাকা মেরে দিয়েছে।’

একই অভিযোগ করে রিয়াজ হোসেন বলেন,‘আমাদের দুই বন্ধুর কাছ থেকে তারা ১৬ হাজার ৬শ’ টাকা নিয়েছে। ফরম পূরণের যাবতীয় কাগজপত্রও তারা নিয়েছে। কিন্তু ফরম পূরণ না করে সব টাকায় নিজেদের পকেটে পুরেছে। গত দুইদিন ধরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তা জানান, মাগুরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ৫৭ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা কৌশলে হস্তগত করেন ওই কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা অমি ও সাধারণ সম্পাদক ইমন শেখ আমিন। সংগৃহীত টাকা কলেজে জমা না দিয়ে ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা সেটি আত্মসাৎ করেন। এমন কি তাদের পরীক্ষার ফরম পর্যন্ত কলেজে জমা দেননি। ফলে গত ৩০ মার্চ অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো ওই ৫৭ জন পরীক্ষার্থী কলেজে প্রবেশপত্র নিতে এসে ব্যর্থ হন। তারা বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে কলেজের অধ্যক্ষ ও মাগুরা জেলা ছাত্রলীগকে জানায়। এসময় প্রাথমিক তদন্তে আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের ওই নেতাদের বিরুদ্ধে ফরম পূরণের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। যে কারণে জেলা ছাত্রলীগ ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সূর্যকান্ত বিশ্বাস জানান, ছাত্রলীগের ওই দুই নেতা যে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য মাথাপিছু ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে তাদের মধ্যে মাত্র ৭ জন নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছিল। তারা ৩০ মার্চ তারিখে কলেজে এসে ঘটনা জানানোর পর স্থানীয় এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের সহযোগিতায় দ্রুত যশোর বোর্ডে যোগাযোগ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যরা অকৃতকার্য হওয়ায় তাদেরকে পরীক্ষা দেয়ানো যায়নি। তবে কৃতকার্যদের পাশাপাশি অকৃতকার্যদের কাছ থেকে এ ধরনের অবৈধ অর্থ গ্রহণ বড় ধরনের একটি অপরাধ। এ বিষয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করে ফেরতের ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে কলেজে কর্মরত কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনা জানাজানির পর থেকেই আদর্শ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের অভিযুক্ত সভাপতি সম্পাদক গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি গতকাল সোমবার তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়