logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রভাবশালীর একটি অবৈধ ভবন রাজউক পারলে ভেঙে দেখাক: সাঈদ খোকন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪১ | আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৭:৪২
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন (ফাইল ছবি)
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, রাজধানীতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সাড়ে ৫ হাজার ভবন। রাজউক চাইলেই তা ভাঙা অসম্ভব। সাধারণ নাগরিকরা বিশ্বাস করে না এই অবৈধ ভবন ভেঙে রাজউক নতুন শহর উপহার দেবে। তাই রাজউক প্রভাবশালীর একটি অবৈধ ভবন পারলে ভেঙে দেখাক। তাহলেই বুঝবো রাজউকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা আছে।

রাজধানীর কলাবাগানের ইয়াকুব সাউথ সেন্টারে স্টেট ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘অগ্নিকাণ্ড: কারণ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোববার তিনি একথা বলেন।

মেয়র সাঈদ খোকন আরও বলেন, রাজধানীতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সাড়ে ৫ হাজার ভবন। রাজধানীর এসব অবৈধ ভবন ভাঙার কি ক্যাপাসিটি রয়েছে রাজউকের? ভেঙে সেখানে নতুন করে গড়ার সাধ্য কি আছে? ভাঙতে গেলেও তো সেখানে যে ময়লা হবে তার ডাম্পিং কোথায় করবে? এটা তো অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু এই ভবনগুলো তো একদিনে গড়ে ওঠেনি। আইন অমান্য করে কেউ না কেউ তো এই ভবনগুলো অবৈধভাবে করেছে। অন্য কোনও দেশের নাগরিক করেনি। আমাদের নাগরিকরাই করেছে।

মেয়র আরও বলেন, ‘যখন ভবনগুলো নির্মাণ হচ্ছিল তখন বাধা দেয়া ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। আজকে এই ভবনগুলো যদি ভাঙতে চাই তা তো অসম্ভব। এই যে সমস্যা তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, অবহেলা আর অক্ষমতার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে। আজ রাজউক এই সাড়ে ৫ হাজার ভবন ভাঙবে- এটা সাধারণ নাগরিকরা বিশ্বাসও করে না। কিন্তু দু-একজন প্রভাবশালীর অবৈধ ভবন ভেঙে তো রাজউক প্রমাণ দিতেই পারে যে তারা পারে।’

সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ। ঢাকায় প্রতিদিন নতুন মানুষের আগমন ঘটে ৬ হাজার। ঢাকার মধ্যে পুরান ঢাকা আরও বেশি ঘনবসতিপূর্ণ। ঢাকার প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অনেকেই শহুরে জীবনে অভ্যস্ত নন।

তিনি আরও বলেন, সচেতনতা সবার জন্যই। সমাজের অনেক মানুষ রয়েছে শিক্ষিত দামি গাড়িতে ঘুরছে। কিন্তু অসচেতন মনে পানির বোতল, ব্যবহৃত টিস্যু রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিচ্ছেন। শিক্ষিত মানুষের মধ্যে যদি বোধ খুঁজে না পাই তাহলে অর্ধশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত মানুষকে দোষ দিয়ে কি লাভ?’

অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সচেতনতার বিকল্প নেই বলে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘চুরিহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর সবাইকে সচেতন হবার অনুরোধ জানানো হয়। সবাই আগ্রহীও হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে কেমিক্যাল সরাতে বলা হয়। এরপর কিন্তু আরও একটি আগুনের ঘটনা ঘটেছিল। প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের কিছু ঘটেনি। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।’

সিটি করপোরেশনের আইনগত অক্ষমতার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘চুরিহাট্টায় আগুনের পর বলা হলো, সিটি করপোরেশন কেন মামলা করবে না। যৌক্তিক কথা। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ক্ষমতায় সেটা নেই। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা ও দোকান করার কারণে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারে সিটি করপোরেশন, মামলা করতে পারে না।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আমাদের সেবা দানের ক্ষেত্রে সবগুলো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নেই। সময় এসেছে সবাই বসে সমন্বয় করা। সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবেই সম্ভব ঘুরে দাঁড়ানো।’

স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন স্থপতি অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেসের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান ড. নাসরিন হোসাইন, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান, বাংলাদেশ অ্যাসিড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ পলাশ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. কামরুজ্জামান মজুমদার, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়