• ঢাকা সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫

মাজারের দান বাক্সে ৪ মাসে জমা ২০ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ টাকা

বগুড়া প্রতিনিধি
|  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৪
বগুড়ায় হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) মাজারের ৮টি সিন্দুকে চার মাসে ২০ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ টাকা জমা হয়েছে। 

সোমবার সন্ধ্যায় গণনা শেষে ওই তথ্য নিশ্চিত করেন ওই মাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। পাওয়া গেছে সোনার তৈরি মহিলাদের ১৭টি নাক ফুলও। 

মহাস্থান মাজার কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গত রোববার থেকে দু’দিন গণনা কার্যক্রম চলে। টাকা গণনার কাজে পাশের মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি স্থানীয় রূপালী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তাও অংশ নেন।

মহাস্থান মাজার কমিটির কর্মকর্তারা জানান, মাজারের চারদিকে মোট ৯টি সিন্দুক রয়েছে। এর মধ্যে ১টি অকেজো। অন্য ৮টি সিন্দুকের মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে ৬টি খোলা হয়। এরপর সকাল ১১টা থেকে সিন্দুকে পাওয়া টাকা গণনা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পরদিন সোমবার বাকি দু’টি সিন্দুক খুলে তার টাকা গণনা শুরু হয় এবং শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। 
টাকাগুলো মাজারের পাশেই রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। সিন্দুকে জমা হওয়া ধর্মপ্রাণ মানুষের দানের ওই টাকা দিয়ে মাজার এবং মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী শাহ্ সুলতান মাহমুদ মধ্য এশিয়ার বল্লখ রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি রাজত্ব ছেড়ে প্রায় ৭০০ বছর আগে পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুণ্ড্রনগর তথা আজকের বগুড়ার মহাস্থানে আসেন। মহাস্থানগড়ে পৌঁছে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। প্রথমে পুণ্ড্রবর্ধনের তৎকালীন রাজা পরশুরামের সেনাপ্রধান, মন্ত্রী এবং কিছু সাধারণ মানুষ ইসলামের বার্তা গ্রহণ করে মুসলিম হন। 


এভাবে পুণ্ড্রবর্ধনের মানুষ হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকলে রাজা পরশুরামের সাথে শাহ সুলতানের বিরোধ বাধে এবং এক সময় যুদ্ধ শুরু হয়। ১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি পুণ্ড্রবর্ধনের শেষ রাজা পরশুরামকে পরাজিত করেন। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করলে মহাস্থানে তার মাজার নির্মিত হয়। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখীর (রহ.) ওরস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তার কবর জিয়ারত করলে সওয়াব পাওয়া যাবে এই আশা নিয়ে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান তার মাজারে আসেন। তারা তার মাজারের চারদিকে রাখা সিন্দুকগুলোতে টাকা-পয়সাও দান করেন।

মাজার কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান,  তিন মাস পর পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এর আগে গেল বছরের ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা। 

আগের তুলনায় এবার টাকার পরিমাণ কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সংসদ নির্বাচনসহ নানা কারণে এবার মাজার পরিদর্শনে আসা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আর সে কারণে দানের পরিমাণও কমেছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়