DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬

কাজে আসছে না কোটি টাকার ফগ লাইট

এম,মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
|  ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৫ | আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৮
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। এই নৌপথে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার যানবাহন পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়ে থাকে। তবে শীতের মৌসুমে প্রায়ই ঘন কুয়াশার কারণে ফেরী চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাটে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এতে করে যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নয়টি ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করে। কিন্তু কুয়াশার মাত্রা বাড়লে এই সার্চ লাইটও কোনও কাজে আসছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  ঘন কুয়াশার কারণে প্রতি বছরই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে খান জাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত, কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পরীক্ষামূলকভাবে এ লাইটগুলো সংযোজন করা হলেও ওই বছরের শীত মৌসুমে তা সুফল বয়ে আনতে পারেনি। তিন বছর পার হলেও লাইটগুলো মেরামতে বা আধুনিকায়নে কোনও উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

শাহ আলী ফেরির মাস্টার (চালক) পরিমল চন্দ্র সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ফগ লাইট শুধু রাতের বেলায় নদী পথ দেখার প্রয়োজনে সামান্য কাজ করে। কিন্তু ঘন কুয়াশা পড়লে এই ফগ লাইট কোনও কাজে দেয় না।

ঢাকা থেকে ফেরি কেরামত আলীতে আসা বাসযাত্রী বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেরিতে ফগ লাইট লাগিয়েছে। লাইটগুলো সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার না করার কারণে জনসাধারণের কোনও উপকারে আসছে না।

এই রুটে চলাচলকারী অপর যাত্রী সোহাগ মিয়া বলেন, কুয়াশা পড়লেই ফেরিগুলো দিক হারিয়ে পদ্মার চরে আটকে পড়ে। কোটি টাকা দামের ফগলাইটগুলো কোনও কাজেই আসছে না।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রকৃতির ওপর আমাদের কোনও হাত নেই। ফগ লাইটের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি প্রকৌশলী বিভাগ দেখে থাকে।

 বিআইডব্লিউটিসি মেরিন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ক্যাপ্টেন শওকত সরদার বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফগ লাইটগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা এরিয়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, ঘন কুয়াশার মধ্যে ফগ লাইট আসলেই কোনও কাজ করেনা। এরইমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ জানান, বিষয়টি আমি অবহিত নই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

আরও পড়ুন

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়