• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫

পুলিশের কেনা কোরাল মাছ নিয়ে গেল মেয়র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
|  ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৯ | আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০৩
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তার কেনা দুটি কোরাল মাছ জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে। এই ঘটনা নিয়ে শহরের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. শাহ আলম এই অভিযোগ করার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মেয়রের লোকজনও মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

মো. শাহ আলম জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তার ভাতিজির (ভাইয়ের মেয়ে) বিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে গেল ৩-৪ দিন আগে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং ছয় কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি কোরাল মাছ ২২ হাজার টাকা দিয়ে কিনেন। পরে মাছ দুটি বশির নামে ওই আড়তদারের ফ্রিজেই রেখে দেন।

আজ শনিবার বিকেলে মাছ দুটি বাড়িতে পাঠানো কথা ছিল। কিন্তু গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়র বারেক মোল্লা ও তার লোকজন মাছ দুটি বশিরের আড়ত থেকে নিয়ে যেতে আসেন।

এসময় বশির ফোন দিয়ে শাহ আলমকে বিষয়টি জানান। তখন শাহ আলম মসজিদে জুম্মার নামাজের জন্য উপস্থিত ছিলেন। তিনি বশিরের ফোন থেকেই মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন। তবে মেয়র কোনও কথা না শুনে মাছ দুটি নিয়ে যান। পরে উপায় না পেয়ে বরিশাল থেকে আরও দুটি কোরাল মাছ কেনেন তিনি।

শাহ আলম আরও জানান, এখন এই ঘটনাটি স্বীকার না করার জন্য আড়তদার বশিরের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। যে কারণে সে এখন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। 

এ বিষয়ে আড়তদার বশির আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শাহ আলম স্যারের অনুষ্ঠানের জন্য আমি দুটি কোরাল মাছ সংগ্রহ করি। মাছ দুটি আমার ফ্রিজেই রাখা ছিল। শাহ আলম স্যারের নিতে দেরি থাকার কারণে শুক্রবার মাছ দুটি মেয়র সাহেবকে দেই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কি হয়েছে কিছুই জানিনা।

এ ব্যাপারে মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সামনেই পৌর নির্বাচন। তাই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কল্পকাহিনী সাজানো হচ্ছে। সত্যের বাবা হচ্ছে মিথ্যা। যদি তা সাজিয়ে-গুছিয়ে বলা যায়।

তিনি অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষ মনির ভূঁইয়া (সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগ, কুয়াকাটা) ও তার লোকজন টুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে এই কল্পকাহিনী সাজিয়েছেন। আমি ঢাকায় আছি। এলাকায় গিয়ে সাংবাদিকদের ডেকে এই মিথ্যাচারের বিচার চাইব।  

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিষয়টি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত। এই ঘটনার সঙ্গে টুরিস্ট পুলিশের অফিসিয়াল কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনাটি দুঃখজনক। এই ঘটনা কাম্য নয়।

আরও পড়ুন

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়