logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জলবসন্তসহ শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ছে

শাহীন শাহ, টেকনাফ
|  ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:২০
কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শীতজনিত রোগসহ জলবসন্তের চরম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ক্যাম্পে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে।

অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জলবসন্তসহ শীতজনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় স্বাস্থ্য সেবা নেওয়ার পাশাপাশি কবিরাজি ওষুধও ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। অন্যান্য রোগের তুলনায় জলবসন্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এসব রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সচেতন করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন বলছে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। নির্দিষ্ট সময় ও সঠিক চিকিৎসায় এসব রোগীরা দ্রুত সেরে উঠবেন।

খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্রায় ৩০টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। শীত বাড়ার সাথে সাথে এসব শিবিরে শীতজনিত রোগ যেমন- জ্বর, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে জলবসন্ত রোগীর সংখ্যাও অত্যধিক। ত্রিশটি ক্যাম্পেই জলবসন্ত রোগীর সংখ্যা রয়েছে। তবে এতে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি।

শুধু উনছিপ্রাংয়ের পুটিবনিয়া ক্যাম্পে প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এর মধ্যে জলবসন্ত রোগীর সংখ্যা ৭শ’র বেশি। এই রকম প্রতিটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা জলবসন্তসহ শীতজনিত নানা রোগে ভুগছে বলে জানা গেছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট এনজিওকর্মীরা জানান, জলবসন্ত ছোঁয়াচে রোগ হলেও ভয়ের কিছু নেই। সব সংস্থার মেডিকেল টিম চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি সচেতন করে যাচ্ছে। সব ধরনের রোগ মহামারী আকারে যেন ধারণ না করে সেদিক দিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে সংশ্লিষ্টরা। তবে জলবসন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আলাদা করে থাকাই শ্রেয়।

উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জলবসন্ত আক্রান্ত দুই শিশু আহমদ ও রোকেয়া জানায়, ছোট ছোট ফুসকুরি ওঠায় শরীর খুব বেশি ব্যথা ও চুলকায়। যার কারণে ঘুমাতে খুব কষ্ট হয়।

শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আলী হোসেন জানান, শীতকাল হওয়ায় সর্দি, কাশিসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পের বেসরকারি হাসপাতাল এমএসএফে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যায় না। ত্রাণ বিক্রি করে বাইরে গিয়ে ওষুধ কিনে আনতে হয়।

এনজিও কর্মকর্তা মো. নোমান বলেন, শীত আসার সাথে সাথে জলবসন্তসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ব্র্যাকের কর্মকর্তা আহমদুর রহমান বলেন, তিনি জলবসন্তসহ স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগী ও অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে।

এনজিও সিআরসির প্যারামেডিক মো. শাকের বলেন, শীতজনিত রোগসহ জলবসন্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। গুরুতর বেশি হলে উন্নত হাসপাতালে রেফার করা হয়।

উপসচিব ও উনচিপ্রাং ক্যাম্পের ইনচার্জ কাজী ফারুক আহমদ বলেন, উনচিপ্রাং ক্যাম্পে ৭শরও বেশি জলবসন্ত রোগীসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা দ্রুততার সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিন্তা ও আতঙ্কের কিছু নেই। এদের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সব রকমের চিকিৎসা ও মোটিভেশন অব্যাহত থাকবে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়