কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্র হত্যায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ | ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৪০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১০

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় হৃদয় নামে এক স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যার আগে হৃদয়কে অপহরণ করায় হয়েছিল। তাকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওই তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৯ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মো. মশিউর রহমান এ রায় দেন। এসময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাব্বির খান (২৩) উপস্থিত ছিলেন। বাকী দু’জন হেলাল উদ্দিন ওরফে ড্যানি (২০) ও আব্দুর রহিম শেখ ওরফে ইপিয়ার (৩৮) পলাতক রয়েছেন। 

আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন দুলাল জানান, ২০১১ সালের ২৩ মে সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়ার পূর্ব পাড়ার সাজেদুল ইসলামের ছেলে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মতাসসিম বিন মাজেদ ওরফে হৃদয় (১৪) খাতা কেনার জন্য সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে সে আর বাড়ি ফেরে না। পরদিন পার্শ্ববর্তী চাঁদাগাড়ার মাঠে তার সাইকেলটি পাওয়া যায়। এরপর ২৬ মে অপহরণকারীরা ফোনে হৃদয়ের মুক্তির জন্য ১৩ লাখ টাকা দাবী করে। 

৩১ মে হৃদয়ের মা তাসলামি খাতুন কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২ জুন অপহরণকারীদের কথামত হৃদয়ের মা ২ লাখ টাকা পৌঁছে দেয়। সেসময় হৃদয়ের উদ্ধারের দাবীতে কুষ্টিয়াবাসী আন্দোলনে নামে। পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। 

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অবশেষে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর মামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ড্যানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিতে পরদিন অর্থাৎ অপহরণের ১৩৪ দিন পর ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ১০ মাইল নামক স্থানে ফখরুলের ইটভাটার পাশে মিজানুর রহমানের জমিতে পুতে রাখা হৃদয়ের দেহের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর পুলিশের দেয়া চার্জশিট অনুযায়ী বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনসহ অর্থদণ্ডাদেশ দেন। 

হৃদয়ের মা তাসলিমা জানান, তিনি এ রায়ে সন্তুষ্ট, তবে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী করেন তিনি।

আরও পড়ুন :

এসএস