কেউ খোঁজ রাখেনি মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলীর

প্রকাশ | ২৬ মার্চ ২০১৮, ১৩:০৪ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮, ১৪:৩০

চিরিরবন্দর সংবাদদাতা

স্বাধীনতার পর অনেক মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হলেও কোনো খেতাব মেলেনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদার রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলীর।

তার আশা জীবন সায়াহ্নে এসেও যদি তাকে কোনো খেতাবে ভূষিত করা হয় তাহলে তিনি মরেও শান্তি পাবেন। 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বসে আরটিভি অনলাইনকে এসব কথা বলেন আব্বাস আলী।

তার পিতার নাম এম এম আমানুল্ল্যা। তিনি ১৯৫০ সালের ৬ মে জন্মগ্রহণ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শিয়াল কোটে ওয়ালেস অপারেটর হিসাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

৬৮ সালেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আটক করে ফেলতে পারে বিষয়টি টের পেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন আব্বাস আলী।

পরে  ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুজিববাহিনীতে যোগদান করেন।

মার্চের দিকে আমবাড়ীকে পাকবাহিনী মুক্ত করতে তিনি ও তার সঙ্গীরা ভেঙে দিয়েছিলেন আমবাড়ী ব্রিজ। এরপরেও পাকবাহিনী জায়গাটি ঘিরে ফেললে তিনি পরিবার নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এম আব্দুর রহিম তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগদান করান।

পরে আব্বাস আলী সোনাবাহিনীতে থাকায় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কাঁঠলা ইউথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সুবেদার মেজর হিসাবে দায়িত্ব পান। এরপর তার নেতৃত্বে কাঁঠলা ইউথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ৪৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি ৪২৪৯ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনীকে ঘায়েল করতে ট্যাংকের ভেতর অবস্থান করেছিলেন ২২ দিন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি খালাস পেলেন হাইকোর্টে
--------------------------------------------------------

৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি অভিমানে খেতাবের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় পর তার আশা-এই সরকার তাকে কোনো খেতাকে ভূষিত করবে। এম এম আব্বাস আলীর স্ত্রী শহীদা আলী আরটিভি অনলাইনকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি যে অবদান রেখেছিলেন তার তুলনায় কিছুই পাননি।

সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পাচ্ছেন প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। আজ তিনি অসুস্থ। কিন্তু দেখার কেউ নেই। নেই কোনো সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা।

আব্বাস আলীর মেয়ে রেবেকা সুলতানা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমরা আট ভাই-বোন লেখাপড়া শিখেও কোনো সরকারি চাকরি পাইনি।

যুদ্ধের সময়ে আব্বাস আলীর সহযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লা আরটিভি অনলাইনকে জানান, তিনি সাধারণ কোনো মুক্তিযোদ্ধা নন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যে অবদান রেখেছেন সেই তুলনায় কিছুই পাননি।

পুনট্রি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরে কামাল আরটিভি অনলাইনকে জানান, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার কাছে আব্বাস আলীর মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবদানের কথা শুনেছি। তাকে সম্মানিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আরও পড়ুন: 

জেবি/এসএস