logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

বাবুলকে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
|  ০১ আগস্ট ২০১৭, ১৬:২২ | আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৭, ১৭:১৮
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার থেকে বাবুল ত্রিপুরা (৩০) নামে এক শ্রমিককে উদ্ধারের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের ট্র্যাফিক অফিসার রেজাউনুরকে প্রধান করে গঠিত এ তদন্ত কমিটি ১ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন।

আরটিভি অনলাইনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল গফফার।

সোমবার বন্দরের ৪ নম্বর গেইটে বেসরকারি একটি  ডিপো থেকে আসা বিদেশগামী একটি কনটেইনার থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বাবুল ত্রিপুরাকে উদ্ধার করে।

রোববার মধ্যরাত থেকে কনটেইনারের ভেতরে হ্যাঙ্গারে পোশাক ঝোলানোর কাজ করছিলেন বাবুল ত্রিপুরা। কাজ শেষে ভোরের দিকে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। এর মধ্যে কনটেইনারটি সিলগালা করে তা প্রাইম মুভার ট্রেইলারে (কনটেইনারবাহী গাড়ি) তুলে দেয়া হয়। ঠিক তখনই ঘুম ভাঙে বাবুলের। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। হাত দিয়ে কনটেইনারের দরজায় একের পর এক আঘাত করেন। এভাবে এক মিনিট, দুই মিনিট করে কত সময় পার হয়েছে, তা আর মনে নেই তার।

সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির ডিপো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ফটকের সামনে এসে থামে প্রাইম মুভার ট্রেইলারটি। ফটকের সামনে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের একজন ট্রেইলারের থাকা কনটেইনারের ভেতরে কিছু নাড়াচাড়া করার শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি দ্রুত বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান তিনি। পরে কনটেইনার খুলে বাবুল ত্রিপুরাকে প্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে যান। বর্তমানে বাবুল ত্রিপুরা সুস্থ আছেন।

বন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল গফফার আরটিভি অনলাইনকে আরো জানিয়েছেন এই ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি ওই কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষেরও তদন্ত করা উচিত। যাতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

রপ্তানি পণ্য (পোশাক) বোঝাই এই কনটেইনারটি সীতাকুণ্ডের কেডিএস লজিস্টিকস লিমিটেড ডিপো থেকে বন্দর দিয়ে জাহাজে করে যুক্তরাজ্য নেয়া হচ্ছিল।

বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ রায় বলেন, গরমের কারণে পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন বাবুল। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

বন্দর ও ডিপোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবুল ত্রিপুরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা কনটেইনারের ভেতরে আটকে ছিলেন। এ ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগে ডিপোতে শ্রমিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়।

লে. কর্নেল আবদুল আরো গাফফার  বলেন, এই শ্রমিককে উদ্ধার করা না গেলে দেশের বড় ক্ষতি হতো। এতে পোশাকশিল্পও ভাবমূর্তির সংকটে পড়ত। চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতো।

বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনারে পণ্যবোঝাই ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে প্রাইম মুভার ট্রেইলারে করে বন্দরে এনে সরাসরি জাহাজে তুলে দেয়া হয়। প্রায় ৪০ ফুট লম্বা এই কনটেইনারটি গতকাল ভোরে যখন সিলগালা করা হয়, তখন কাস্টমসের কেউ সেখানে ছিলেন না বলে জানান ডিপোতে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝি (সর্দার) মিলন ত্রিপুরা।

জেবি/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়