Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৩ মে ২০২২, ১৮:১৮
আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ১৮:৪৬

অতিবৃষ্টি আর পোকার আক্রমণে পাট চাষে ক্ষতি

অতিবৃষ্টি আর পোকার আক্রমণে পাট চাষে ক্ষতি
ছবি: প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণে রাজবাড়ীতে পাট চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এখনও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে এ বছর ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। মূলত পেঁয়াজ, মসুর ও গম উত্তোলন করে সেই সব জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। জেলায় সব থেকে বেশি পাটের আবাদ হয় বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালি উপজেলাতে।

এপ্রিল মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পাট বীজ বপণ করেছে কৃষক। মূলত জেলায় সেচের মাধ্যমে পাট বীজ বপণ করে কৃষক। তবে এ বছর পাট চাষে সমস্যা তৈরি করেছে অতিরিক্ত বৃষ্টি। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। দুই দিন বৃষ্টি চলার পর কিছুটা বন্ধ ছিল। এরপর ঘূর্ণিঝড় অশণির প্রভাবে গত কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হচ্ছে রাজবাড়ীতে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে অধিকাংশ পাটখেতে হাটু পানি জমেছে। এ ছাড়া নিচু এলাকার জমি তলিয়ে গেছে। ফলে পাট আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে চাষিরা। অথচ রাজবাড়ীর জেলার তৃতীয় প্রধান ফসল পাট। এখানে প্রচুর ভালো মানের পাট উৎপাদন হয়। এ জন্য জেলায় পাট নির্ভর চারটি মিলস্ গড়ে উঠেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট আবাদের জন্য বৃষ্টির পাশাপাশি নিয়মিত রোদের প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই পাটখেতে পানি জমে থাকা যাবে না। সব সময় জমির মাটি শুকনো থাকলে ফলন ভালো হয়। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অধিকাংশ পাটখেতে পানি জমে যাওয়ায় ছোট ছোট পাটের মাটির ওপরের অংশে শিকড় গজিয়েছে। এ জন্য গাছ আর বড় হবে না। আবার জমি থেকে পানি সরে গেলেও রোদে পাট মরে যাবে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে জমিতে আগাছার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটি নরম থাকায় আগাছাও পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। বাড়তি উপদ্রব হিসেবে পাটখেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। অনেক খেতে পাটের পাতা খেয়ে সাবাড় করছে পোকা।

কালুখালি উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের কৃষক কাইয়ুম শেখ জানান, পাটের জমিতে সেচ দেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। পাটের বয়স একমাসও হয়নি। ফলে পাট আর বড় হবে কি না সন্দেহ আছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়রে আদর্শ কৃষক আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, পেঁয়াজ তুলে আমি পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তার তিন বিঘাতেই পানি। পানি বের হচ্ছে না। এই পাটও আর হবে না। কেটে ফেলে অন্য কিছুর আবাদ করা লাগবে।

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বারুগ্রামের কৃষক নজরুল হোসেন বলেন, আমরা বিল এলাকায় পাটের আবাদ করি। কিন্তু এই অসময়ে লাগাতার বৃষ্টিতে পাটের জমিতে হাটু পানি। আবার উচু জমির পানি গড়িয়ে নিচে আসছে। ফলে নিচু জমির পাট আর হবে না।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম শহীদ নূর আকবর বলেছেন অন্য কথা। তিনি জানান, বর্তমান বৃষ্টিপাতের ফলে পাটের ফলন ভালো হবে। পাটের জন্য এই বৃষ্টি দরকার। পাটের বেড়ে ওঠায় সাহায্য করবে এই বৃষ্টি।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS