Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

হিলি চেকপোস্ট দিয়ে লাখ টাকার অবৈধ পণ্য আসছে

দিনাজপুরের হিলি চেকপোস্ট দিয়ে আসা অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ভারতীয় যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে। তারা প্রতিদিন লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এরপর বাংলাহিলি বাজারে বিক্রি করে আবার দেশে চলে যাচ্ছেন।

যারা এই ব্যবসায় জড়িত তাদের বলা হয় ‘লাগেজপার্টি’। চেকপোস্ট গেটে বিজিবি কিছুটা নমনীয় থাকায় আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় ‘লাগেজপার্টি’ রমরমা ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লাগেজপার্টি যেসব পণ্য বিক্রি করছে, তার মধ্যে রয়েছে-মদ, বিয়ার, গাঁজা, শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স ইত্যাদি। কাস্টমসে ও বিজিবি পোস্টে স্ক্যানিং মেশিন না থাকায় এসব মালামালের ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্রও আনার শঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল করোনার বিধিনিষেধ উঠে যায়। ফলে হিলি চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্ট-ভিসায় যাত্রী যাতায়াত শুরু হয়। আর এই সুযোগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি ও বালুরঘাটের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন চোরাকারবারি পাসপোর্টে বাংলাদেশি বি-শ্রেণির ভিসা (বিজনেস ভিসা) লাগিয়ে লাখ টাকার পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। এরপর তারা এসব পণ্য বিক্রি করে আবার দেশে চলে যাচ্ছেন।

এই লাগেজপার্টি এক-দু’দিন পরপর বাংলাদেশে আসে। তারা ৩ থেকে ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে এই কার্যক্রম চালায়। তারা দুইভাবে বাংলাদেশে অবৈধ মালামাল আনে। কেউ নিজেরা পুঁজি খাটিয়ে, আবার কেউ মহাজনের অধীনে। এই অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের হিলি চেকপোস্টে গড়ে উঠেছে লাগেজপার্টির একটি সিন্ডিকেটও।

হিলি চেকপোস্টে লাগেজপার্টির মধ্যে অন্যতম হলেন- পার্থ দে, শংকর সাহা, শ্যাম দে, সুমন দাস, বিথিশ দে, বিশ্বজিত গোস্বামী, সিরোজ শেখ, শংকর ঘোষ, অনুপ কুমার গুপ্ত, রাজ্জাক মণ্ডল, সন্টু অধিকারী, উত্তম রায়, রিপন চন্দ্র দেবনাথ, কমলী চৌধুরী, সাগুতা দাস, সন্টু দে, মদন খতিক, অসিম মৈত্র, সরমা সাহা, প্রতিমা বর্মন, আল আমিন শেখ, সনজিত প্রমুখ। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জন এই কারবারে জড়িত।

আরও জানা গেছে, ভারতীয় লাগেজপার্টির সদস্যরা ভারত থেকে বাংলাদেশি কোনো যাত্রী দেশে ফেরার সময় ওই যাত্রীর ব্যাগে জোরপূর্বক অবৈধ মালামাল ঢুকিয়ে দেন। ওই যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করা মাত্রই তারা এপারের এজেন্টকে ফোন করে যাত্রীর নাম বলে দিলে বাংলাদেশে অবস্থান করা এজেন্টরা ওই যাত্রীর ব্যাগ থেকে মালামাল বের করে নিয়ে যান। এই কৌশলেও চোরাচালান হচ্ছে। ফলে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম খান জানান, চেকপোস্ট দিয়ে যাতে কোনো যাত্রী অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতে না পারে সে জন্য কাস্টমসের পাসপোর্ট শাখার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা কাস্টমস ব্যাগেজ সুবিধায় যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকু পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন। কেউ অবৈধ বা অতিরিক্ত পণ্য আনলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS