Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, বাড়ছে দাম

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, বাড়ছে দাম
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর

পেঁয়াজ আমদানির জন্য পূর্বের পাওয়া ইমপোর্ট পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ও নতুন করে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না পাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের ফলে সরবরাহ কমায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম এতে করে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০শে এপ্রিল ৬৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৯০২টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এরপরে ঈদের ছুটি শেষে ৭ মে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এদিকে ঈদের পূর্বে বন্দরে পেঁয়াজ ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা মেহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঈদের আগে হিলির আমদানিকারকদের গুদাম থেকে পেঁয়াজ কিনেছিলাম ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। আর ঈদের পরে কিনতে এসে শুনি দাম বেড়ে গেছে। এখন দাম চাইছে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি।

দাম বাড়ার কারণে পেঁয়াজ কেনা আমাদের তো সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা যেখানে ২০ টাকা কেজি খুচরা বিক্রি করে আসলাম এখন সেখানে ২০ থেকে ২২টাকা কিনতেই হচ্ছে। এতে করে আমাদের যেমন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে যার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তেমনি গ্রাহকদের বাড়তি দামে খেতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষদের কিনতেও সমস্যা হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম আরটিভি নিউজকে বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমাদের যেসব ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) নেওয়া ছিল সেগুলোর মেয়াদ ছিল চলতি মাসের ৫ মে পর্যন্ত। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতরের জন্য পহেলা মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত ছয়দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। একইভাবে দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে একইসময়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। যার কারণে ওই সময়ের মধ্যে বাড়তি পেয়াজ আমদানির ইচ্ছা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। এরপর সরকার নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ইমপোর্ট পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছেন যার কারণে বর্তমানে বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কবে দেওয়া হবে কিংবা দেওয়া হবে কিনা সে সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে সামনে যেহেতু মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা সেকারণে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। তাই সে সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া ভালো হবে। এদিকে নতুন করে পেঁয়াজ না আসায় আমদানিকারকদের গুদামে থাকা পূর্বের আমদানিকৃত পেঁয়াজ কমতির দিকে থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারি সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, গত ২৯শে মার্চ পেঁয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেসময় রমজানে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সময় বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। সেই মোতাবেক ৫ মে থেকে পেঁয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এই সময় চলমান কোনো ইমপোর্ট পারমিট নেই যার কারণে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। যেহেতু দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়েছে সরকার সেসব চাষীদের কথা বিবেচনা করেই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল। এরপর থেকে বন্দর দিয়ে এ পর্যন্ত আর কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। তবে আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ৫ মে পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ছিল। এরপর থেকে আইপি না পাওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের ফলে বন্দরে শ্রমিকদের আয় যেমন কমেছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় কমেছে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS