Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
discover

ঝিনাইদহে ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপর্যয়, এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা 

ঝিনাইদহে ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপর্যয়, এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা 
ঝিনাইদহে ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপর্যয় (ফাইল ছবি)

সরাসরি ভোটে ঝিনাইদহের ৬৩ ইউনিয়নে নৌকার বিপর্যয় ঘটেছে। প্রার্থী মনোনয়ন ও কোন্দলের কারণে দলীয় প্রার্থীরা ভোটে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। ভোটে নৌকার চেয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি জয়ী হয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলার ৬৩ ইউনিয়নের ফলাফল জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩টিতে বিভিন্ন ধাপে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ঝিনাইদহের দুটি ও শৈলকূপার দুটি ইউনিয়নে মামলাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভোট হয়নি। ৬৩ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আবার সরাসরি ভোট হয়েছে ৫৭টিতে। শৈলকূপা ও কালীগঞ্জে তিনটি করে মোট ছয়টি ইউনিয়নে বিনাভোটে নৌকার প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে ৫৭টি ইউনিয়নে ভোট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সরাসরি ভোটে ২৬টিতে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৩১টিতে। সরাসরি ভোটে নৌকার এই বিপর্যয় দলীয় কোন্দল ও প্রার্থী মনোনয়নে বিচক্ষণতার অভাব বলে দায়ী করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুস ছালেক জানান, দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত মহেশপুর ইউপি নির্বাচনে ১২টির মধ্যে ৬টি নৌকা ও ৬টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। একইদিনে কালীগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৮টিতে নৌকা ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। এই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে বিনাভোটে নৌকার তিন প্রার্থী জয়লাভ করেন। কোটচাঁদপুরে পাঁচটি ইউনিয়নে একটিতে নৌকা বাকি চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ১৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি ভোটে পাঁচটিতে নৌকা ও ১০টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। সদর উপজেলার নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তিনটিতে তৃতীয় স্থান ও একটিতে চতুর্থ স্থান দখল করে। মধ্যহাটী ও হলিধানী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুর ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৮টি স্বতন্ত্র ও দুটিতে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেন। হরিণাকুণ্ডুর ফলসি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী নিমাইচাঁদ মণ্ডল দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪২ ভোট পেয়ে রেকর্ড করেন। অনদিকে একই উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিয়ার রহমান জোয়ারদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা একমাত্র সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে শৈলকুপায়। শৈলকুপায় ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯টিতে সরাসরি ভোট হয়। সেখানে দুটিতে স্বতন্ত্র ও ৬টিতে নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হন। তিনটি ইউনিয়নে বিনাভোটে নৌকার প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মামলা জটিলতায় শৈলকুপার মনোহরপুর ও নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নে পঞ্চম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নৌকার প্রার্থীর পরাজয়ের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম ফোটন আরটিভি নিউজকে বলেন, প্রথম কথা আমাদের প্রার্থী বাছাই ঠিক হয়নি। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে আমরা নৌকা প্রতীক তুলে দিতে পারিনি। তাছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের ভোটাররাও চায়নি নৌকা জয়ী হোক। সব মিলিয়ে এ ভাবেই জেলায় নৌকার প্রার্থীরা আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেননি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা তৈয়ব আলী জোয়ারদার বলেন, নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করতে জেলা নেতারা আন্তরিক ছিলেন না। প্রার্থী বাছাইয়েও ছিল গাছাড়া ভাব। অনেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পাস করাতে ব্যস্ত ছিলেন। পূর্বাঞ্চলে নৌকার পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মদদ দেওয়া হয়েছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসি ইউনিয়নে ৪২ ভোট পাওয়া নৌকার প্রার্থীকে কেন সুপারিশ করা হয়েছিল তাও তদন্ত হওয়া দরকার।

পি/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS