Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮

সিলেট প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:১৬
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:২৪
discover

তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ  

তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ  
ফাইল ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রাকের ওজন মাপার দাবিতে এ রুট দিয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছে তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক পাথর আমদানি হতো। কিন্তু গত ৫ দিন থেকে এই বন্দরে কোনো পাথর আসছে না। আমদানি বন্ধ থাকায় এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের দুপাশেই এতদিন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মাপযোগ করা হতো। একসময় তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে স্থাপন করা হয় ওজন মাপার স্কেল। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে বন্দরে চালু হয়েছে অটো এসএমএস সফটওয়্যার। এতে প্রতিটি গাড়িকে নতুন করে বন্দরে এসে পুরো আমদানির তথ্য দিতে হবে।

অন্যদিকে ভারতের অংশে বন্দরে ওজন মাপার স্কেল স্থাপন না হওয়ায় সেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মাপযোগ করা হয়। তাই বাংলাদেশ ও ভারতের অংশে ওজনের পার্থক্য দেখা দেবে। এতে ব্যবসায়ীদের জরিমানা দিতে হতে পারে। দুইপাড়ের সমন্বয় না থাকায় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির শিকার হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, অটো এসএমএস সফটওয়্যার চালুর কারণে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। কারণ তথ্য নতুন করে দিতে হলে একটি গাড়ি বন্দর অতিক্রম করতে দশ মিনিট সময় লাগতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরে ২০০ টির বেশি গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। পণ্য নিয়ে প্রতিদিন সীমান্তে আটকে থাকবে ৫০০ বেশি গাড়ি। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লোকসানে পড়েছেন, তেমনি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে দুই পারের সমন্বয় না করে অটো এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি স্থাপন করায় ব্যবসায়ীরা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা দাবি করে বলেন, সফটওয়্যার-ভিত্তিক এ কার্যক্রম সময় সাপেক্ষ হওয়ায় আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ওজন মেপে পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার চালু করতে হবে।

তামাবিল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তামাবিল স্থলবন্দরে গত ৭ জানুয়ারি থেকে অটো এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতদিন শুধু ওজন মাপার স্কেল চালু ছিল। এখন ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে অটো এসএমএস পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো আরও ত্বরান্বিত হবে।

তামাবিল কয়লা-পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, স্থলবন্দর ডিজিটালাইজেশনের পক্ষে আমরা, তবে সেটা ভারত-বাংলাদেশ উভয়েরই হতে হবে। একপাশে ম্যানুয়াল অন্য পাশে ডিজিটাল পদ্ধতি থাকলে কোনো সময়ই মাপ সমান হবে না। এখানে দুই দেশের ব্যবসা চলছে। তাই এক দেশে ডিজিটাল এবং অন্য দেশে ম্যানুয়াল পদ্ধতি হলে পাথর আমদানিতে সমস্যা হবে। এ ছাড়া আলাদা পদ্ধতির কারণে লোকসানে আছি। তাছাড়া আমার মাথার ওপর মানি-লন্ডারিং আইন ঝুলছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ভারতের স্থলবন্দর ডিজিটালাইজেশনের ৭৫ শতাংশ কাজ সমাপ্ত প্রায় সেহেতু কিছুদিন অপেক্ষা করে তামাবিল স্থলবন্দরে অটোমেশিন পদ্ধতি চালুর দাবি জানাই। দু’দেশে একসঙ্গে এ পদ্ধতি চালুতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

জিএম/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS