Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮

পটুয়াখালী (কলাপাড়া) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৪০
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৪৬
discover

অধ্যক্ষের নির্দেশে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়

অধ্যক্ষের নির্দেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় 
পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

বাবার স্ট্রোকও মন গলাতে পারেনি কলেজ অধ্যক্ষের। তার সাফ কথা প্রবেশপত্র নিতে হলে ১২শ’ টাকা দিতে হবে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দরিদ্র কামাল তালুকদারের চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দরিদ্র পরিবারটি।

কলাপাড়া মহিলা কলেজের কলা অনুষদের পরীক্ষার্থী মোসা. জান্নাতুল শিফা কান্নাজুড়ে দেন। কলেজ ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর এমন কান্নার দৃশ্য দেখে শিক্ষকরা তার প্রবেশপত্র বিনামূল্যে তাকে দিতে বললে অধ্যক্ষ ধমক দেন শিক্ষকদের। এ ছাড়া ২০২০ সালে করোনায় অটোপাস শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বিতরণে নেওয়া হয় ১৫শ’ টাকা। সার্টিফিকেট প্রদানে টাকার রসিদ দিলেও প্রবেশপত্র বিতরণে টাকার রসিদ দেয়নি কলেজ। অভিভাবকরা এ সম্পর্কিত অভিযোগ মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালককে জানালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ফেরত দিতে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২১ সালের কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান অনুষদের তিনটি বিষয়ের ১৫৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১২শ’ টাকা হারে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ এবং ২০২০ সালের অটো পাসকৃত ১৬৯ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা হারে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেন ভারপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুক।

অধ্যক্ষের নির্দেশেই এ টাকা আদায় করেন করনিক জসিম উদ্দীন; যার সিংহ ভাগ কলেজ অধ্যক্ষ নিয়ে বাকিটা ভাগাভাগি করে দেন কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষকদের মধ্যে। যারা প্রতিবছর থাকেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটিসহ কলেজের সব কমিটিতে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসেন কলেজ অধ্যক্ষ। এরপর বৈঠক করে কলেজ পরিচালনা পরিষদ। কিন্তু কোরাম সংকটে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. বাহাউদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ সাহেব ফোন করে জানিয়েছেন যে কলেজ মেইনটেন্যান্সের জন্য এডমিট বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নেবেন। তবে সেজন্য ১২শ টাকা হারে আদায় করবেন, তা আমার জানা ছিল না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পর কলেজ অধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন বলেন, আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক এবং বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী বলেন, পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। এটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরও যদি কলেজ অধ্যক্ষ প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা আদায় করার বিষয়টি যদি প্রমাণ হয়। তবে ওই কলেজের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুক বলেন, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত নিতে বলা হয়েছে। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দুজন এসে টাকা নিয়েছে। তারা এ মুহূর্তে আমার কাছে আছে। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

জিএম/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS