Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
discover

ভূরিভোজের নামে প্রেমিক যুগলের জরিমানার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

ভূরিভোজের নামে প্রেমিক যুগলের জরিমানার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে
ফাইল ছবি

নওগাঁর রাণীনগরে কথিত গ্রাম্য সালিশ বৈঠক ডেকে প্রেমিকের ১ লাখ ৫০ হাজার এবং প্রেমিকার (গৃহবধূ) ১ লাখ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। জরিমানার পুরো টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোহসীন মল্লিক ও তার সহযোগী নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ কথিত মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউপির দেউলা গ্রামে।

গত শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) এর মধ্যে ভূক্তভোগী গৃহবধূর (২৫) জরিমানার পুরো টাকা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু গরিব গৃহবধূর পক্ষে এতোগুলো টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় ওই গৃহবধূ এখন ঘর ছাড়া। অপরদিকে ছেলের পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা আদায় করলেও অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় গ্রাম ছাড়া হয়েছে প্রেমিক সবুজও।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, একই গ্রামের শুনিল চন্দ্রের ছেলে সবুজ (২৫) এর সঙ্গে সাতমাস আগে বিয়ে করার শর্তে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মুসলিম ওই গৃহবধূর। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা উভয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ (নভেম্বর) শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই গৃহবধূর ঘর থেকে সবুজ নামের এক হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবককে আটক করে স্থানীয় মাতব্বর মোহসীন মল্লিক ও অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ কতিপয় ব্যক্তিরা। এরপর তথাকথিত গ্রাম্য শালিশে গ্রামবাসীকে এক সন্ধ্যায় ভূরিভোজ করার নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে সবুজের জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার এবং মুসলিম গৃহবধূর জরিমানা করা হয় ১ লাখ টাকা। ছেলে পক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে ১ লাখ টাকা পরিশোধ করে ২৬ নভেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য সময় নেয়। একই তারিখের মধ্যে ওই গৃহবধূকেও টাকা পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর থেকে সবুজ গ্রামছাড়া হয়েছে। অপরদিকে ওই গৃহবধূসহ তার স্বামী এবং সবুজের পরিবারের সদস্যদের এই বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মাতব্বরদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগী প্রেমিক ও প্রেমিকাসহ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রভাবশালী ওই মাতব্বরদের ভয়ে কোনো পরিবারই আইনের আশ্রয়ে যেতে কিংবা কাউকে কিছু বলার সাহস যোগাতে পারছে না।

গৃহবধূ মুঠোফোনে আরটিভি নিউজকে বলেন, বিয়ের পর থেকে আমি পারিবারিকভাবে সুখী নই। স্বামীর পরিবারসহ আশপাশের মানুষের অনেক অত্যাচার সহ্য করে আসছি। হঠাৎ করেই আমার বাড়ির পাশের সাইকেল মেকার সবুজের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা একে-অপরকে ভালোবাসি। সবুজ আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এই সম্পর্কের কথা কতিপয় মাতব্বররা জেনে যায়। এরপর তারা মিথ্যে অভিযোগে আমাকে আর সবুজকে জিম্মি করে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করেছে যা আমার পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। আমি সবুজকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু মাতব্বররা নানা কৌশলে তা হতে দিচ্ছে না। আমি এই ধরনের অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই। আমি মাতব্বরদের নানা রকমের হুমকির ভয়ে বর্তমানে পালিয়ে রয়েছি।

প্রেমিক সবুজ গ্রামছাড়া হওয়ার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাতব্বর নবনির্বাচিত মেম্বার অনিমেষ চন্দ্র সরকার আরটিভি নিউজকে বলেন, ওই গৃহবধূর চরিত্র ভালো না। এই ধরনের ঘটনা ওই গৃহবধূ ইতিপূর্বে অনেকবার ঘটিয়েছে। গ্রামবাসীরা ওই গৃহবধূর এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। তাই গ্রামবাসীরা এবার শালিশে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিদ্ধান্তকেই আমরা বাস্তবায়ন করছি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর আমি গৃহবধূর কাছে পুলিশ সদস্যকে পাঠিয়ে খোঁজখবর নিতে এবং সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে মোবাইল নম্বরও দিয়েছি। গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো আরটিভি নিউজকে বলেন, কোনো মানুষ যদি অনৈতিক কাজ করে ফেলে তার জন্য আইন আছে। কিন্তু গ্রাম্য শালিসের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া অন্যায়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমআই/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS