Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৫২
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৫৮
discover

নিজের ভোটও পেলেন না মেম্বার প্রার্থী!

নিজের ভোটও পেলেন না মেম্বার প্রার্থী!
নজরুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ইউপি নির্বাচনে একটি ভোটও পাননি রামখানা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের নজরুল ইসলাম। তার ফলাফল পত্রে ভোটের সংখ্যা শূন্য।

শূন্য ভোট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এলাকায়। প্রার্থী নিজেই লজ্জায় ক্ষোভে শঙ্কিত। পরে ভোট ফের গণনার আবেদন করেছেন তিনি।

তৃতীয় দফায় ২৮ নভেম্বর রামখানাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ওই ইউনিনে ৩নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাখারগঞ্জ পশ্চিম রামখানা দেওয়ানটারী গ্রামের ইজ্জত উল্ল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম। প্রতীক পাওয়ার পর বিজয়ী হতে অন্যান্য প্রার্থীর মত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালান তিনি।

সবার মতো দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে প্রতীক ও প্রার্থীর প্রচারণা। পোস্টার লাগানো হয় ওয়ার্ডের সর্বত্রই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। সবশেষে ভোটের দিন কেন্দ্রে টিউবওয়েল প্রতীকের ১ জন এজেন্টও ছিল।

অথচ রোববার দিনশেষে গণনা করে দেখা যায় তিনি একটি ভোটও পাননি। তাহলে তিনি, তার স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয়স্বজন, তার শুভাকাঙ্ক্ষী, কর্মী-সমর্থক ও এজেন্ট কেউই কী তাকে ভোট দেয়নি। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনার সাথে প্রশ্ন উঠেছে প্রার্থীর নিজের ভোটটি কোথায় গেল ?

নজরুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে কোনো ভোট না পেলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরজামাল শেখ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৭১৬, ফজলে রহমান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ ভোট, সফিকুল ইসলাম তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৭ ভোট।

ভোটের এ ফলাফলে কোনোভাবে হিসেব মিলাতে পারছেন না প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিজেও।

তিনি আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। অপ্রত্যাশিত এ ফলাফল শোনার পরে আমি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছি। লজ্জায় বাইরে যেতে মন চায় না। কাল থেকে নিজেকে আমি প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলেছি। ভোটের কথা মনে উঠলেই হাউমাউ করে আমার কান্না আসছে।

যদি কর্মী-সমর্থকরা আমাকে ধোঁকা দেয় তারপরেও আমি, আমার স্ত্রী মেহরা খাতুন, বড় ছেলে মফিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন, মেজ ছেলে এনামুল হক, তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনরা ভোট দিলে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ ভোট পাওয়ার কথা। সেখানে শুন্য ভোট হয় কীভাবে। আমি এটা মেনে নিতে পরছি না। এ ফলাফলে আমি পুরোপুরি বেইজ্জত হয়ে গেছি। তাই রাতেই আমি সংশ্লিস্ট অফিসে ভোট আবারও গণনার আবেদন করেছি।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এটি আইনিভাবে মোকাবিলা করার জন্য তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমআই/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS