Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ

  ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৩:৫৫
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৩:৫৭

চেয়ারম্যান পদে চাচা-ভাতিজার লড়াই 

চেয়ারম্যান পদে চাচা-ভাতিজার লড়াই 
চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আপন চাচা-ভাতিজা। একই পদে লড়ছেন জনপ্রিয় এক নারী প্রার্থী।

চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মোট চারজন প্রার্থী। নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নূর-এ-আলম সরকার। মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তার আপন বড় ভাই, এই ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান আরফানের একমাত্র ছেলে গাজী সালাহউদ্দীন টিটু। চাচা-ভাতিজার পাশাপাশি আনারস প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন এই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত প্রার্থী মনজুর আলম লড়ছেন মশাল প্রতীক নিয়ে।

স্বতন্ত্র গাজী সালাহউদ্দীন টিটু বলেন, ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আমার বাবা নুরুজ্জামান আরফান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দুই বছর পর বাবা মারা যায়। তখন আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স বিভাগের ছাত্র। এলাকাবাসী তখন আমাকে উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। কিন্তু লেখা-পড়ার ক্ষতি হতে পারে ভেবে এবং আমার চাচার অনুরোধে প্রার্থী হইনি। সেই উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আমার চাচা নুর-এ-আলম সরকার। এরপর দুটি নির্বাচন হয়েছে এবং দুটিতেই আমার চাচা প্রার্থী হয়েছেন। প্রথমবার নার্গিস আক্তারের কাছে তিনি হেরে যান এবং দ্বিতীয়বার তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করছেন। প্রতিবার নির্বাচন এলে চাচা আমাকে বলতেন এবারই শেষ। এরপর তুমি করবে। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছিলেন না। এ বছর গণমানুষের অনুরোধে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আমার অনেক সমর্থককে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন চাচার অনুসারীরা। তবে চাপ প্রয়োগ করে কোনো লাভ হবে না। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নূর-এ- আলম সরকার বলেন, ’আমার ভাতিজার ইচ্ছে হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এটা তার ব্যাপার। আমিও চেষ্টা করছি। আমার কোনো লোকজন নির্বাচনে বাঁধা দিচ্ছেন না। বরং নৌকার জোয়ার দেখে অন্য প্রার্থীরা আমার নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দিয়েছে।

এদিকে নার্গিস আক্তার বলেন, আমার বাবা হাজী জহির উদ্দিন ১৯৩১ থেকে ৬৩ পর্যন্ত টানা ৩২ বছর এবং পরবর্তীতে আমার ভাই ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছর এই ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একবার আমিও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এবারের নির্বাচনে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমি পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচনের কাজে জড়িতদের কাছে আমার অনুরোধ, নির্বাচনটি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ ভোটারদের দাবি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। জয়-পরাজয় নির্ভর করবে ভোটারদের ভোটের ওপর। তারা বলছেন, ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তাহলে এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী নার্গিস আক্তার বাচ্চা এবং গাজী সালাউদ্দিন টিটুর সঙ্গে। তৃতীয় স্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে নৌকা ও মশাল প্রতীকের সঙ্গে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। কোনো ধরণের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে। আশাকরি শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান আরটিভি নিউজকে বলেন, নির্বাচনটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সবধরনের চেষ্টা করছি। উল্লেখ্য, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন। নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৩ জন সদস্য এবং তিনটি নারী সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১১ জন সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নয়টি কেন্দ্রের ৪০টি কক্ষে, ১৭, ৩১০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

জিএম/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS