logo
  • ঢাকা রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৭

মসজিদের ইমামের সঙ্গে নিজের বিয়ে ঠেকালো স্কুলছাত্রী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট, ভোলা
|  ২৫ মে ২০১৭, ১৫:৪৯ | আপডেট : ২৫ মে ২০১৭, ১৮:৩৬
ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার। তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার আয়োজন করেছিলেন দিনমজুর পিতা। কিন্তু সেই বিয়ে আটকে দিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অতিগোপনে ফারজানার অনুপস্থিতিতেই তার বাবা মা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এক মসজিদের ইমামের সঙ্গে বিয়ে দেন। এ নিয়ে সে কিছুই জানতো না।

সোমবার রাতে ফারজানার বাবা তাকে জানান, তার স্বামী পরদিন তাকে নিতে আসবেন।

এ খবর শুনে সে একেবারেই ভেঙে পড়ে। কিন্তু দমে যায়নি।  

পরদিন নিজের বিয়ে ঠেকাতে ফারজানা তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দেবের সাহায্য নেয়। সুশান্ত দেবের সাহায্যে সে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

সেখানে সবকিছু খুলে বললে জেলা প্রশাসক সেলিম উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে ফারজানার পিতা মোহাম্মদ সিরাজকে ডেকে পাঠান এবং বিয়ের আয়োজন বন্ধ করান। 

মঙ্গলবার এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক।

ফারজানার পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিমাসে বৃত্তি প্রদানে একটি উন্নয়ন সংস্থাকে নির্দেশ দেন তিনি। এমন কি নিজ তহবিল থেকে অনুদানও দেন জেলা প্রশাসক। 

ফারজানার পিতা সিরাজ উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, তিনি দিনমজুর। তার ৫ মেয়ে। ফারজানা বড়। তার পক্ষে লেখাপাড়ার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সহায়তায় মেয়েকে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করেন তিনি।

তিনি জানান, মেয়ের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফারজানার মা জান্নাতুল ফেরদৌস স্বামীর ঘর ত্যাগ করে বাবা নুরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে উঠেছেন।

ফারজানা আরটিভি অনলাইনকে জানায়, সে লেখাপড়া করতে চায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়। তার এ বিয়ে ভেঙে দিতে পারায় সে দারুণ খুশি। 

এজন্য সে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে। 
 
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ওই স্কুলের সব শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আয়োজন করা হয় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন।  

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়