Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২৩ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৪০
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২১, ১৬:২৩

চাল আত্মসাৎ মামলার পাঁচ আসামি মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের

আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন চাল আত্মসাৎ মামলার পাঁচ আসামি
ফাইল ছবি

আগামী ২৩ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গত রোববার (২১ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মোট ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ধর্মীয় সভার নামে ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলার পাঁচজন আসামি রয়েছেন।

পাঁচজন হলেন, কামদিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোশাহেদ হোসেন চৌধুরী, শাখাহারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহাজুল ইসলাম, রাজাহারের উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল লতিফ সরকার, দরবস্ত ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শরিফুল ইসলাম ও শিবপুরের উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেকেন্দার আলী মন্ডল।

এ ছাড়া উপজেলার অবশিষ্ট ১১টি ইউনিয়নে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা হলেন, সাপমারা ইউনেয়নে শামীম রেজা মন্টু, কাটাবাড়িতে জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপ, গুমানিগঞ্জে মানিক মিয়া, তালুককানুপুরে মাসুদ রানা, ফুলবাড়িতে শান্তুনা কুমার দেব, নাকাইহাটে মকছেদুল আমিন রিপন, হরিরামপুরে জাহেদুল ইসলাম বাদল, রাখালবুরুজে নুরজাহান বেগম, মহিমাগঞ্জে মুন্সি রেজানুর রহমান, কোচাশহরে আবু সুফিয়ান, শালমারায় আনিছুর রহমান।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক অর্থবছরই ২ হাজার ২৫৩টি ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে। এসব সভার অনুকূলে বরাদ্দ হয় ৫ হাজার ৮২৩ টন চাল। যার মুল্য ২২ কোটি ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৯০ টাকা। বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

এক অর্থবছরে এতোগুলো সভা যুক্তিসঙ্গত নয়। জাল কাগজপত্র তৈরি করে চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগে চলতি বছর ২৬ আগষ্ট মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ওই পাঁচজন দলীয় প্রার্থীসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ বাদী হয়ে তার কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। হোসাইন শরীফ বলেন, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলাটি রুজু করা হয়।

তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধানে আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া যায়। তাই প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে। মামলার তদন্ত চলছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপজেলায় ২ হাজার ২৫৩টি ধর্মীয়সভা অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তারা ওই সংখ্যক ধর্মীয়সভার অনুষ্ঠান দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন সংক্রান্ত কাগজপত্রে সকল সদস্যদের সই একই প্রকৃতির এবং একই হাতের লেখা।

বিবরণে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ২ হাজার ২৫৩ জন প্রকল্প সভাপতির অনুকূলে ৫ হাজার ৮২৩ টন চাল সরবরাহে ডিও ইস্যু করেন। পরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর তাদের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন হয়েছে মর্মে প্রত্যায়ন দেন। এভাবে ৫ হাজার ৮২৩ টন চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।

জেলা ত্রাণ কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ২০১৭ সালের জুনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ২ হাজার ২৫৩টি প্রকল্পের অনুকুলে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সালের ২১ থেকে ২৮ জুন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১৭টি স্মারকপত্রের মাধ্যমে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এমআই/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS