Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৩
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৮

বাড়ছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

বাড়ছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ
বাড়ছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

ঝিনাইদহে শীতের আগেই বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া, জ্বরসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা আর জনবল সংকটে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ৮ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ১১৫ জন শিশু। যার অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অন্য সময় হাসপাতালে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি শিশু নতুন করে ভর্তি হচ্ছে।

নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে জেলার অন্য হাসপাতালগুলোতেও। ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শয্যার বিপরীতে কয়েকগুণ বেশি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে নার্সরাও।

সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের লতিফ মিয়া আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আজ ৮ দিন হাসপাতালে আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি। প্রথমে ঠান্ডা আর কাশি হয়েছিল। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার বলছে ডাবল নিউমোনিয়া হয়ছে। আল্লার রহমতে এখন একটু ভালো।

শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রাম থেকে আসা ২ মাস বয়সী রাবেয়াকে ভর্তি করা হয়েছে রোববার বিকেলে। সোমবার সকাল থেকে এখন তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো।

রাবেয়ার পিতা রফিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, সোমবার বিকেলে এখানে এসেছি। ডাক্তার এখনও আসেনি। রাতে মাত্র ১ জন নার্স আর আয়া ছিল। ওষুধ দেওয়া হয়ছে। এখন বাচ্চাটা সুস্থ আছে।

সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের হাবিল নামের এক স্বজন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়’শ রোগী থাকছে। কিন্তু একজন মাত্র ডাক্তার। এত রোগী একজন ডাক্তার কি করে চিকিৎসা দেবে। সেও তো মানুষ। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়াও নিচে আবার আউটডোরে রোগী দেখতে হয়। এভাবে তো চিকিৎসা দেওয়া যায় না। এই জন্য হাসপাতালে জরুরি আরও ডাক্তার এবং নার্স দরকার।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: আনোয়ারুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ গরম আবার হঠাৎ ঠান্ডার কারণে এই সমস্যা হচ্ছে।

অভিভাবকদের প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ছোট বাচ্চাদের প্রতি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। তাদের যেন শরীর না ঘামে বা অতিরিক্ত ঠান্ডা না লাগে। বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সুষম খাবার দিতে হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আলাউদ্দিন আরটিভি নিউজকে বলেন, শিশু ওয়ার্ডের জন্য ২ জন চিকিৎসক ছিলো। কিছুদিন আগে একজন চিকিৎসক প্রশিক্ষণের জন্য চলে গেছে। আর একজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। সেই সাথে রোগীর চাপ সামলাতে তাদেরও কষ্ট হচ্ছে। জনবল ও চিকিৎসকের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই এ সমস্যা সমাধান করা হবে।

এমআই/এম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS