Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

বাল্যবিয়ে আর কর্মে জড়ানো শিক্ষার্থীদের ফেরানো যাবে?

বাল্যবিয়ে আর কর্মে জড়ানো শিক্ষার্থীদের ফেরানো যাবে?
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চরম বিপাকে অভিভাবকরা। ঘরবন্দী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি নানা সংকটও তৈরি হচ্ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে অনেকে মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিয়েছেন আর ছেলেদের লাগিয়েছেন নানা কর্মে।

রোববার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা থাকলেও এসব ছাত্রছাত্রীরা আর শিক্ষাগ্রহণে ফিরবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন কয়েকজন শিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদের ঝরেপড়া ঠেকানো এখন তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও জানালেন তারা।

নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। কলেজের খাতায় ছাত্রীর সংখ্যা এক হাজারের উপরে। ২০২০ ও ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে অনেক ছাত্রীর বিয়ে দিয়েছে তার পরিবারের লোকজন। প্রায় ২০ ভাগ ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছেন। তাদেরকে কলেজে ফেরানো প্রায় অসম্ভব বলে আশঙ্কার কথা জানালেন গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক।

অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা শুনেছি যে অনেক ছাত্রীদের বিয়ে দিয়েছেন তার পরিবার। কলেজ খোলার পরেই বোঝা যাবে ঝড়েপড়া ছাত্রী আছে কি না।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, কাগজে-কলজে মেহেরপুর জেলা বাল্যবিয়ে মুক্ত। কিন্তু বাস্তবে নয়। একদিকে বাল্য বিয়ের প্রচলন অন্যদিকে কলেজ বন্ধ থাকায় মেয়েদের নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছিলেন। লেখাপড়া ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে দেওয়াটাই নিরাপদ মনে করেছেন বেশিরভাগ অভিভাবক।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যখন সবকিছু প্রায় অচল তখন গোপনে বাল্যবিয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ অভিভাবক গোপনে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে বড় দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে বলে তারা মনে করছেন।

রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী সংখ্যা সাড়ে ছয়শ। এর মধ্যে অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে আর ছেলেরা জড়িয়ে পড়েছেন নানা কর্মে। তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হলেও আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। ঝরে পড়া ঠেকানো এখন বড় কাজ বলে মনে করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়েদের মতই ছেলেদের অনেকে লেখাপড়া থেকে দূরে সরে গেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা নানা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। হাতের কাজ শেখা, শ্রমিকের কাজ, ক্ষুদ্র যানবাহন চালানো ও ফ্রিল্যান্সিং কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন শত শত ছাত্র। ফলে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরার সম্ভবনা খুবই কম।

ঝরেপড়া রোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হবে বলে জানালেন মেহেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, দেড় বছর পর পাঠদান শুরু হচ্ছে। পাঠদানের কয়েকদিন পরেই বোঝা যাবে কি পরিমাণ ঝড়ে পড়েছে। তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

এসএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS