Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

বন্যার পানিতে নিমজ্জিত জমির ফসল

বন্যার পানিতে নিমজ্জিত জমির ফসল
বন্যার পানিতে নিমজ্জিত জমির ফসল

পানি কমার সাথে সাথে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি। চলতি বছরের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও কৃষকের। সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল।

রোপা আমন, বোনা আমন, আমনের বীজতলা, আগাম শীতকালীন সবজি, কলা ও আখসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি বিকল্প জাতের ধান রোপন করে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।

চলতি বছরের বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল শষ্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও জেলা সদর, কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

যমুনায় পানি কমছে। সাথে সাথে দৃশ্যমান হচ্ছে এ সমস্ত এলাকার কৃষি ও কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলার নয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৯২ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমির বোনা আমন, ১০১ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ৩৩০ হেক্টর জমির আগাম শীতকালীন সবজি, ২৮০ হেক্টর জমির আখ ও ১৮ হেক্টর জমির কলাসহ ৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে আমন ধান ও শীতকালীন সবজিসহ কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। নয়টি উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন ও ৩ টি পৌরসভা এলাকায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। রোপা আমন নষ্ট হয়েছে ৫১ হাজার ৯০০ জনের, বোনা আমনে ৪ হাজার ৩৪৭ জন, আমন বীজতলা লাগানো ২ হাজার ৭৬০ জন, আগাম শীতকালিন সবজি লাগানো ৮ হাজার ৮৬০ জন, আখ লাগানো ৩ হাজার ৫০০ জন ও কলা চাষ করা ৬৮৫ জনসহ মোট ৭২ হাজার ৫২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জমি প্রস্তুত করা, বীজ লাগানো, সার ও কীটনাশক দেয়া এবং শ্রমিক বাবদ ব্যাপক পরিমান ব্যয় করার পর ফসল তলিয়ে যাওয়ায় মূলধন সংকটে পড়েছেন সে সমস্ত কৃষকেরা।

চরাঞ্চলের কৃষি জমির পানি নেমে গেলেও বিল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে এ সকল জমিতে চলতি মৌসুমে পুনরায় চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষি উৎপাদন নির্ভর কৃষকেরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনরায় চাষাবাদের জন্য বীজ, সারের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভাদাস গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছিলাম। জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, সার ও কীটনাশক প্রদান এবং শ্রমিকদের মজুরি বাবদ প্রতি বিঘায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এত টাকা ব্যয় করার পর আমার জমিতে পানি উঠে যাওয়ায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নামতেও সময় লাগবে, ফলে এ মৌসুমে আর চাষাবাদ করা হবে না। কৃষিনির্ভর আমাদের পরিবার, একদিকে মূলধন শেষ হয়ে গেল। অন্যদিকে কোন ফসলও পাওয়া যাবে না। সারাবছর আমি পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

একই গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধান ছিল, দুই বিঘায় ছিল বীজতলা, সবই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নামলে সরিষার আবাদ করতে হবে। কিন্তু সরিষা লাগানোর মূলধন কোথায় পাবো, সরকার সহযোগিতা না করলে আর চাষাবাদ করা হবে না।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোঃ আবু হানিফ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, কৃষকদের লোকসান কাটিয়ে পুনরায় চাষাবাদ করার জন্য বীজ-সারসহ প্রণোদনা প্রদান করার পাশাপাশি জমির পানি নেমে গেলে বিকল্প নাভি ও গারিঞ্জা জাতের ধান লাগিয়ে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টা করা হবে।

প্রতিবছরেই বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখামুখি হতে হয় যমুনা পাড়ের এই জেলার কৃষকেরা। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS