Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

বৃদ্ধার মরদেহ নিলোনা কেউ, দাফন করল ছাত্রলীগ

বৃদ্ধার মরদেহ নিলোনা কেউ, দাফন করল ছাত্রলীগ
বৃদ্ধার মরদেহ দাফন করল ছাত্রলীগ

হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যাওয়া এক বৃদ্ধার মরদেহ নিলো না তার ছেলে মেয়ে কিংবা আত্মীয় স্বজন। পরে বৃদ্ধার মরদেহ দাফন করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) রাত দশটার দিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, মৃত বৃদ্ধার নাম ফাতেমা বেওয়া। দেড় মাস আগে কেউ একজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করিয়ে দেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ভর্তির পর থেকে বৃদ্ধার আত্মীয় স্বজনের কেউ তার খোঁজ খবর রাখেনি। পরে গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ কেউ নিতে আসেনি। রাত দশটার দিকে উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগের সদস্যরা খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।

এসময় উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বৃদ্ধার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। বৃদ্ধার তিন ভাই মরদেহ নিতে গরিমশি করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি। ছেলে-মেয়ে ঢাকায় থাকেন। তারাও কোন সাড়া দেননি।

পরে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃদ্ধার মরদেহ দাফনের দ্বায়িত গ্রহণ করে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের সামনে বৃদ্ধা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত ১১ টার দিকে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বৃদ্ধার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়রা আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, মৃত ফাতেমা বেওয়ার স্বামী লালমনিহাটের ছিনাই এলাকার আজাহার আলী প্রায় একবছর আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার সমন্বয় পাড়ায় তার ভাইয়ের বাড়িতে চলে আসেন। বৃদ্ধার এক ছেলে ও এক মেয়ে অনেকদিন থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন।

ফাতেমার তিন ভাই অতি দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর দেড় মাসেও বৃদ্ধার আপনজন ও কোনো আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে খোঁজ খবর নিতে আসেনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, বৃদ্ধা দেড় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেড় মাসেও কোনো আত্মীয়-স্বজন দেখতে আসেনি। মৃত্যুর পরেও মরদেহ কেউই নিচ্ছে না দেখে আমরা মৃত দেহ দাফনের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করি।

ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. উম্মে হাফসা আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধা প্রায় দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কেউ একজন ভর্তি করে গেছেন। বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS