Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

পাবনা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২২ মে ২০২১, ২১:২৫
আপডেট : ২২ মে ২০২১, ২১:৩২

ভাতিজিকে বিয়ে করে অস্বীকার! 

ভাতিজিকে বিয়ে করে অস্বীকার! 
প্রতীকী ছবি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ময়দানদীঘি বাজার এলাকায় পাতানো চাচা গোপনে বিয়ে করার ৩ বছর পরও প্রকাশ্যে স্ত্রী স্বীকৃতি না দেয়ায় এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (২১ মে) সুমি বাজারে তার স্বামী ফজলুর রহমান ওরফে ফজেলের দোকানে গিয়ে তার সামনে গ্যাসের ট্যাবলেট (ইঁদুর নিধনে) খায়। পরে একই দিন শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অভিযুক্ত ফজলুর রহমান ওরফে ফজেল (৫০) ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পূর্বরামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ডিশ (ক্যাবল) ব্যবসায়ী। তার প্রথম স্ত্রীসহ দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফজেল পলাতক রয়েছেন।

আত্মহত্যাকারী সুমিয়ারা আক্তার সুমি (২০) ভাঙ্গুড়া উপজেলার চকদিগর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। তিনি ভাঙ্গুড়া বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর আগে সুমির বাবা আব্দুল কাশেমের সাথে ফজেল ভাই ‘ধর্ম ভাই’ পাতেন। কয়েক বছর আগে ফজলুর তার পাতানো ভাই আব্দুল কাশেমের মেয়ে সুমির পড়াশোনাসহ সব খরচ বহন করতে থাকেন।

এ কারণে সুমি মাঝে মধ্যে তার পাতানো চাচা ফজলুরের বাড়িতে বেড়াতেও যেতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৩ বছর আগে ২০১৮ সালে উভয়ে গোপনে পাবনায় জনৈক কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন।

তবে অভিযুক্ত ফজলুর বিয়ের কোনো কাগজপত্র সুমিকে দেননি। সুমি প্রকাশ্যে স্ত্রী স্বীকৃতির দাবি করলে ফজলুর টালবাহানা শুরু করেন। এ অবস্থায় সুমি নিরূপায় হয়ে শুক্রবার (২১ মে) ফজলুর দোকানে গিয়ে তাকে স্ত্রী স্বীকৃতি না দিলে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।

এ সময় ফজলুর প্রত্যাখ্যান করলে আত্মহত্যার জন্য সুমি ফজলুর সামনে প্রকাশ্যে গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি। পরে ফজলু অসুস্থ সুমিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, এ ধরনের কথা এলাকায় শুনেছি। গ্রামবাসীর অনেকে বলছেন মেয়েটি অন্তঃসত্বা ছিলেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার (২১ মে) রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শনিবার (২২ মে) তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। অভিযুক্ত ফজেল এবং সুমি ২০১৮ সালে গোপনে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের কাবিননামার একটি কপি পুলিশ শনিবার (২২ মে) হাতে পেয়েছি।

জিএম/পি

আরটিভি’র সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন...

https://www.facebook.com/rtvnews247

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS