Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৩ মে ২০২১, ১০:২৮
আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ১২:১৮

অন্যের স্ত্রী-যুবতীদের ফুঁসলিয়ে গানের আসর বসাতেন ভণ্ড পীর!

অন্যের স্ত্রী-যুবতীদের ফুঁসলিয়ে গানের আসর বসাতেন ভণ্ড পীর!
অন্যের স্ত্রী-যুবতীদের ফুঁসলিয়ে গানের আসর বসাতেন ভণ্ড পীর!

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তা মালা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে এক ভণ্ড পীরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ মে) রাত ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওই রাতে বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের ইছাহক আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩৫), তার মা জহুরা বেগম (৫০) ও মৃত মুনছুর আলীর ছেলে ভণ্ড পীর সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুর।

ইতোপূর্বে ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাসহ একাধিক অভিযোগে একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া অন্যের স্ত্রী ফুঁসলিয়ে, যুবতীদের নিজের আখড়ায় রাখা, যুবতীদের নিয়ে এসে গানের আসর বসানো, রোগ চিকিৎসার নামে প্রতারণা করার নানা অভিযোগেও তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে ওই নিহতের মরদেহ এখনো থানায় রাখা আছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার আব্দুর রশিদ অসুস্থ হলে তিনি তার মেয়ে মুক্তামালাকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে যান আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পান্টু হুজুরের দরবারে। ওই সময় পান্টু হুজুরের খাদেম হিসেবে পরিচিত এরশাদপুর গ্রামের ইছাহক আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুক্তামালার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই এক পর্যায়ে ৬ থেকে ৭ মাস পূর্বে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর মুক্তামালা স্বামীর সাথে পান্টু হুজুরের দরবারেই বসবাস করতেন।

হুজুরের খাদেম হিসেবে ওই দরবার শরীফে আরও অনেক মেয়ে ও পুরুষ বসবাস করেন। বিয়ের পর থেকেই জহুরুলের মা জহুরা বেগম পুত্রবধূ মুক্তামালাকে ভালোভাবে নেননি। তিনি তাকে নানা অত্যাচার করতেন। খেতে দিতেন না। ঘরের ভেতর আটকে রাখতেন। তিনি তার ছেলে জহুরুল ও পান্টু হুজুরকে ফুসলাতেন। তারা সকলে মিলে মুক্তামালার ওপর অমানবিক অত্যাচার শুরু করতেন।

এক পর্যায়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টার দিকে মুক্তামালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পান্টু হুজুরের ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে তারা। পরে মরদেহ দরবারের নিজস্ব ভ্যানে করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি কাউকে না বলতে হুমকিও দেয়া হয়। একইদিন দুপুরে নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মরদেহ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় আসেন। রাত ১০টার দিকে মুক্তামালার বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম ও পান্টু হুজুরসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে জহুরুল ইসলাম, তার মা জহুরা বেগম ও সালাউদ্দীন পান্টু হুজুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত মুক্তামালার বাবা আব্দুর রশিদ জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর তার শ্বাশুড়ি জহুরা বেগম, তার স্বামী জহুরুল ও ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর অত্যাচার করতো। তার পরিকল্পনা করে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি তাদের শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, নিহত মুক্তা মালার মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের আজ সোমবার (৩ মে) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পান্টু হুজুরকে এর আগেও বেশ কয়েকবার নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিএম/পি

RTV Drama
RTVPLUS