logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২১
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২৯

হেফাজতকে নিয়ে পোস্ট, ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকে ওসির সামনে হেনস্তা

Post about custody, DU BCL leader harassed in front of OC
হেফাজতকে নিয়ে পোস্ট, ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকে ওসির সামনে হেনস্তা

হেফাজত ইসলামকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশের সামনে জনতা হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের জয়শ্রী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তার শিকার হওয়া আফজাল খান (২৪)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ–আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। আফজাল খানের বাড়ি উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুনঃ মামুনু‌লের প‌ক্ষে ফেসবুকে পোস্ট, পদ হারালেন ছাত্রলীগ নেতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও ধরমপাশা থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা আফজাল গত ২৯ মার্চ দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। ঘণ্টা তিনেক পর তিনি স্ট্যাটাসটি শুধু নিজে দেখতে পাওয়ার মতো ’অনলি মি’ করে রাখনে। তবে স্থানীয় কিছু যুবক এর স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে ওই ছাত্রলীগ নেতা নিজের গ্রাম মহেশপুর থেকে জয়শ্রী বাজারে যান। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমের ছেলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের কারিগর আল মুজাহিদ (২৫) বিভিন্ন বয়সী ২৯ থেকে ৩৯ জন মানুষকে নিয়ে কেন ফেসবুকে ওই পোস্ট দিয়েছে তার ব্যাখা জানতে চান। শিক্ষার্থী আফজাল তখন উপস্থিত সবাইকে বলেন, তিনি হেফাজতে ইসলামকে ব্যঙ্গ করে কোনো পোস্ট দেননি। তবে হেফাজতের আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিবাদে পোস্ট দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

এরপর এই বিষয় নিয়ে আফজাল ও মুজাহিদের মধ্যে হঠাৎ করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। সেখানে মানুষ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মুজাহিদ ওই ছাত্রলীগ নেতা আফজালের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। সে সময় আফজালের বেশ কয়েকজন বন্ধু ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুজাহিদের পক্ষের লোকজন অনেক বেশি হওয়ায় তারা শিক্ষার্থী আফজালকে জয়শ্রী বাজারে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আটক করে রাখেন। দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে তখন ৩ শতাধিক মানুষ অবস্থান নেয়।

সংবাদ পেয়ে ধরমপাশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আফজালের বিপক্ষে জড়ো হওয়া মানুষকে শান্ত করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন ধরমপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুনঃ ‘দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুর বিষয়টি অপপ্রচার’

অভিযোগ বিষয়ে আল মুজাহিদ বলেন, হেফাজত ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছি। ছাত্রলীগ নেতা তখন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। হেফাজত ইসলামকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ও ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করায় থানা-পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন। এর চেয়ে বেশি কিছু হয়নি।

ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানের ভাষ্য , ওসির নির্দেশে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে ধরমপাশা থানার পুলিশ। এরপর তাকে ধরমপাশা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিস্তারিত পরিচয় পেয়ে মাঝপথেই পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়। থানায় তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। পুরো ঘটনার বিবরণ সাদা কাগজে লিখে তাতে সই করে তিনি থানা থেকে ছাড়া পান।

ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানে বলেন, ধরমপাশা থানার পুলিশ আমাকে অন্যায়ভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে। এ ঘটনায় আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এ ঘটনায় রাতেই ধরমপাশা থানার এসএসআই আনোয়ার হোসেন ও এসআই জহিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ও এএসআই আনোয়ার ওই নেতার হাতে হাতকড়া লাগাইনি। ওসি স্যারের নির্দেশে সিভিল পোশাকে থাকা একজন এএসআই এই হাতকড়া পরান।’

বুধবার (৭ এপ্রিল) এই ঘটনার বিষয়ে ধরমপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমাদের থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার মাধ্যমে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উপস্থিতিতে ওই নেতা থানা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

জিএম

RTV Drama
RTVPLUS