logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

‘আধাঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শেষ’

‘আধাঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শেষ’

‘গতকাল রোববার বিকেলে ক্ষ্যাতে গিয়া দেখছি ধান সব সবুজ। আজ সোমবার সকালে ধান ক্ষ্যাতে গিয়া দেখি সব ধান সাদা। ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করছিলাম। আধাঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শ্যাষ হয়ে গ্যাছে। আমি এখন কি করবো, ছাওয়াল-মাইয়া নিয়া কি খাইয়া বাচঁপো, বুঝে উঠতে পারছি না’-কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউয়িনের ভেন্নাবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবরণ বিশ্বাস।

কৃষক সুবরণ বিশ্বাসের মতো কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া গ্রামের কিশোর বাড়ৈ, পিঞ্জুরি ইউনিয়নের পূর্ণবতী গ্রামের ওলিউল্লাহ হাওলাদার, সরোয়ার হাওলাদার তাদের ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নের উপর দিয়ে গরম হাওয়া বয়ে যায়। আধাঘণ্টা ধরে চলা এ গরম হাওয়ায় উপজেলার কান্দি, পিঞ্জুরী, হিরণ ও আমতলী ইউনিয়নের প্রায় ৬ থেকে ৭ শত হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের আনুমানিক মূল্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার নিটুল রায়।

পূর্ণবর্তী গ্রামের কৃষক ওলিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, আমি এবার ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। গতকাল বিকেলে অধিকাংশ জমিই ঘুরে দেখেছি। সব জমির ধান ভালো ছিল। আজ সকালে ক্ষেতে গিয়ে দেখি সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু আমার জমির ধানই নয়, পুরো পূর্ণবর্তী গ্রামের দক্ষিণ পাশের সমস্ত বিলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিবারগুলোতে বইছে কান্নার রোল। আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হান্নান শেখ বলেন, আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমার সঙ্গে প্রায় অর্ধশত কৃষকের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আমতলী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া বিলে তাদের জমির ধান এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কৃষক আগামী বছর কি খেয়ে বাঁচবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অধিকাংশ কৃষকেরই কৃষি লোন রয়েছে। আমি চাইবো সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সব কৃষকের পাশে দাঁড়ান।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিটুল রায় বলেন, আজ সকালে আমরা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে এ অবস্থার কথা শুনতে পাই। সাথে সাথে আমি আমাদের অফিসারদের সাথে নিয়ে ক্ষেতগুলো দেখতে যাই। আমার ধারণা গরম বাতাসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরাগায়নটা শুকিয়ে গেছে। যে কারণে ধান গাছগুলো ঠিক আছে। তবে শিষগুলো শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা প্রায় ৬ থেকে ৭ শত হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে কৃষকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সে বিষয়ে আমরা মাঠে কাজ করছি।

কৃষি লোন মওকুফসহ কৃষকরা যাতে এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

পি

RTV Drama
RTVPLUS