Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

নেত্রকোনার বিভিন্ন গ্রামে খাবার পানির সংকট

Drinking water crisis in different villages of Netrokona
নেত্রকোনার বিভিন্ন গ্রামে খাবার পানির সংকট

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পাহাড়ি এলাকায় খাবার পানির সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করেই জীবন বাঁচাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে সামর্থ্যবানরা অনেকেই সাব-মার্জিবল পাম্প বসিয়ে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করলেও অধিকাংশ মানুষের ভরসা এখন পুকুর বা ডোবার পানি। তারা দৈনন্দিন প্রতিটি কাজেই এই পানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে গত দুই মাস ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকার সচেতন মহল বলছেন, ডোবা বা পুকুরের পানি ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগবালাই বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।

এদিকে স্থানীয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসংখ্য সাব-মার্জিবল পাম্প স্থাপন ও ফসলি জমিতে সেচ দেয়ার জন্য গভীর নলকূপগুলোর জন্যই পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় মূলত অগভীর টিউবওয়েল গুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সংকট সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে বলে জানায় স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সরজমিনে দেখা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের সাতাশি, ফেচিয়া, মধুয়াকোনা, মউ, সদর ইউনিয়ন, কুল্লাগড়া, বাকলজোড়া, কাকৈরগড়া, গাওকান্দিয়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নসহ সর্বত্রই বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে আদিবাসী এসব মানুষ বালি খনন করে তাতে জমা পানি কাপড়ে ছেকে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছেন।

এছাড়া পৌর শহরের এলাকাতেও দীর্ঘক্ষণ টিউবওয়েল চাপার পরও মিলছে না পানি। তাই গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই পুকুরের ময়লা পানি ফুটিয়ে পান করছেন এবং ব্যবহার করছেন দৈনন্দিন কাজেও। অনেকেই আবার কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে কাঁধে কিংবা মাথায় করে নিয়ে আসছেন বিশুদ্ধ পানি। গত দুই মাস ধরে পানি সংকটে কষ্ট করে আসছেন এ উপজেলার অসংখ্য পরিবার।

এ বিষয়ে কথা হলে ফেচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মালা হাজং জানান, পানির সংকট এখন গ্রামের পর গ্রামে। আগে এত পানি সংকট হয়নি। এ বছর গ্রামের প্রতিটি টিউবওয়লই অকেজো। টিউবওয়েলের হাতল ধরে অনেকক্ষণ চাপাচাপি করলেও পানি আসছে না। পানির জন্য আমরা খুব কষ্ট করছি। আমাদের তো গভীর নলকূপ স্থাপনের সামর্থ্য নেই। তাই এখন পুকুরের পানিতেই জীবন বাঁচাতে হচ্ছে। একই কথা জানান ওই এলাকার শেফালী হাজং ও উৎপল হাজংসহ ভুক্তভোগী অনেকেই।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি পানি সংকট দেখা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। যে কারণে টিউবওয়েলগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। টিউবওয়েলে পানি না আসার বিষয়টি লোকজন আমাদের জানাচ্ছেন। আমরা বিষয়টি উপর মহলে অবহিত করেছি। বিশুদ্ধ পানি সংকট সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এল/পি

RTV Drama
RTVPLUS