Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,আরটিভি নিউজ

  ১৭ মার্চ ২০২১, ১৩:৩৪
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২১, ১৩:৫৭

মামুনুল হককে নিয়ে অশালীন পোস্ট : ঝুমুনের গ্রামে তুলকালাম 

মামুনুল হককে নিয়ে অশালীন পোস্ট : ঝুমুনের গ্রামে তুলকালাম 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের সংখ্যালঘু নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

আজ বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফেসবুকে পোস্টকারী ঝুমন দাস আপনের বাড়ি-ঘরসহ গ্রামের লোকজনের বসতবাড়িতে ঘণ্টাব্যাপী লুটপাট করা হয় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। জানা যায়, এসময় গ্রামের লোকজন ভয়ে হাওরে চলে চলে যায়। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন...ভাগ্নের প্রেমিকাকে শয্যাসঙ্গী করতে বাধ্য হয় মামা!

অভিযোগ উঠেছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে সোমবার ফেসবুকে খারাপ মন্তব্য করেছে ঝুমন দাস আপন (২৫)। আপন শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গুপেন্দ্র দাসের ছেলে।

নোয়াগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানান, পার্শ্ববর্তী কাশিপুর গ্রামের কিছু লোক ও পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার নাছনি, চন্ডিপুর ও সন্তোষপুর, ধনপুর গ্রামের উত্তেজিত কয়েক হাজারো লোক হামলায় অংশ নেয়।

নোয়াগাঁও গ্রামের জানান, ফেসবুক পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কয়েক হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী হবিবপুর গ্রামের লোকজনের বাধার কারণে যেতে পারেনি। এরপর মঙ্গলবার রাতেই নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনের সহায়তায় ফেসবুক পোস্টকারী ঝুমন দাস আপনকে পুলিশ উপজেলার সাসকাই বাজার থেকে আটক করে। কিন্তু কিছু লোক উত্তেজনা বাড়িয়ে আজ বুধবার ঝুমন দাস আপনসহ অনেকের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।

আরও পড়ুন...অন্তর্জালে ঝড় তুলেছেন জয়া আহসান

নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ দাস জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত লোকজন মিছিল নিয়ে আমাদের গ্রামে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু হবিবপুর গ্রামের লোকজন তাদের ফিরিয়ে দেয়। আজ বুধবার সকালে কয়েক হাজার মানুষ অতর্কিত হামলায় চালিয়েছে। হামলায় তাদের গ্রামের তিনটি পাড়ার অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলাকারীদের সবার হাতে রামদা, কিরিছ, লাটি, বল্লম ছিল। গ্রামের লোকজন প্রাণের ভয়ে হাওরে চলে গিয়েছিল।

শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আল মাহমুদ বলেন, ফেসবুক পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে অতর্কিতভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পাশের কাশিপুর গ্রামের লোকজন নোয়াগাঁও গ্রামকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ গ্রামে উঠে ঘর-বাড়ি ভাংচুর করেছে। দিরাই উপজেলার ৫/৭ টি গ্রামের লোকজন এলাকায় চলে এসেছিল। ঘটনার সময় অন্তত ২/৩ হাজার মানুষ উত্তেজিত ছিল বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে নোয়াগাঁও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে মঙ্গলবার রাতে ঝুমন দাস আপনকে আটক করা হয়েছে। আজ সকালে শাল্লার থানার নোয়াগাঁও গ্রামে কিছু ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS