যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর করে চুল কাটার অভিযোগ

প্রকাশ | ০৬ মার্চ ২০২১, ১২:০১ | আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২১, ১২:০৮

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ফাইল ছবি

শরীয়তপুর সদর পৌরসভায় যৌতুকের জন্য  এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন তার স্বামী। নির্যাতনের কারণে ওই গৃহবধূ দুই চোখে দেখতে পারছেন না। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূর বাবা তিনজনকে আসামি করে সদরের পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুনঃ যেভাবে হাত বদল হচ্ছে স্বর্ণ

আনিকা আক্তার (১৯) নামে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি থেকে ঢাকা শেরেবাংলা নগর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সদর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের আবু তালেব খান ও ফাহিমা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে তিনি। তারা এক ভাই এক বোন।গেলো ১৫ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের হুগলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় অভিযোগ ও আনিকার পরিবার সূত্র জানায়, পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের হুগলি গ্রামের আলী আহাম্মদ মোল্লার ছেলে সাদ্দাম হোসেন মোল্লার (৩০) সঙ্গে অনিকা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন : গোসলের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ভাবিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ

সাদ্দাম ঢাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে মাস্টার রুলে চাকরি করছেন।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে আনিকাকে মারধর করে আসছেন তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন, শশুর আলী আহম্মদ (৬০) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৫০)।

গেলো ১৫ ফেব্রুয়ারি সাদ্দামের ওই চাকরি নিয়মিত ও বাড়ি করবেন বলে আনিকাকে বাবার বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা আনতে বলেন তার স্বামী, শশুর ও শাশুড়ি। আনিকা টাকা আনতে অস্বীকার করলে তাকে লাঠি দিয়ে বেদম পেটান তারা। একপর্যায়ে সাদ্দাম  আনিকার চুলের মুঠি ধরে ওয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকতে থাকেন। আনিকা অজ্ঞান হয়ে পরেন। জ্ঞান ফিরলে মাথার যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। এরপর কাঁচি দিয়ে আনিকার মাথার চুল কেটে দেন সাদ্দাম। তাৎক্ষণিক আনিকার প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। আনিকা ভয়ে এ বিষয়ে বাব-মাকে কিছু বলেননি।

যতদিন যাচ্ছিল আনিকা চোখে ঝাপসা দেখছিলেন ও মাথায় যন্ত্রনা শুরু হয়। জানতে পেরে আনিকাকে তার বাবা আবু তালেব খান উদ্ধার করেন। পরে আনিকাকে গেলো ৩ মার্চ গোপালগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আই হসপিটাল অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা শেরেবাংলা নগর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠান।

সেখানে চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বলেন। পরীক্ষা করে পরের দিন আনিকাকে শরীয়তপুরের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আবার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যান।এখন দুই চোখে দেখতে পারছেন না আনিকা। তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছেন।

আনিকার মা ফাহিমা বেগম বলেন, ‘সাদ্দাম ও তার মা-বাবা মিলে আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। মেয়ের মাথা ওয়ালের সঙ্গে  টোকা দিছে। আমার মেয়ে এখন চোখে দেখে না। মেয়ের মাথার চুল কেটে দিছে। শরীর ও মাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মেয়েটি। মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। ওরা আমার মেয়ের অবস্থা এরকম করেছে। মেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আমি এর বিচার চাই।’

আরও পড়ুন : ‘নিজ চোখে যা দেখলাম মাকে আর ভালোবাসতে পারব না’

আনিকার বাবা আবু তালেব খান আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘চাকরি ও বাড়ি করবেন বলে সাদ্দাম ও তার পরিবার আমার মেয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চায়। মেয়ে বলছে, বাবা গরিব সামান্য ছোট একটি দোকান করে। এতো টাকা পাবে কোথায়? বলার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের স্বামী সাদ্দাম, শশুর আলী আহম্মদ ও শাশুড়ি রোকেয়া আনিকাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাদ্দাম  আনিকার চুলের মুঠি ধরে ওয়ালের সঙ্গে মাথা টুকতে থাকেন। মেয়ে ভয়ে আমাদের কিছু বলেনি। মেয়ের মাথার সুন্দর চুলগুলোও কেটে ফেলেছে। জানতে পেরে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাচ্ছি। ওরা দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে নির্যাতন করে আসছে।’

এদিকে, নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মোল্লা মোবাইল ফোনে আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি কেন আমার স্ত্রীকে মারধর করব? কেনইবা চুল কাটব! আমি শুনেছি আমার স্ত্রী  অসুস্থ। তাই শ্বশুরের মোবাইলে বারবার ফোন দিচ্ছি। তিনি ধরছেন না।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন আরটিভি নিউজকে বলেন, গৃহবধূর নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি