logo
  • ঢাকা রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭

দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে পৃথক মামলায় ৬ যুবকের যাবজ্জীবন

দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে পৃথক মামলায় ৬ যুবকের যাবজ্জীবন
ফাইল ছবি

শরীয়তপুরে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ছালাম খান এই রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন : আত্মহত্যার আগে আয়েশার ভিডিও বার্তা

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার আনাখন্ড গ্রামের মৃত খালেক ছৈয়ালের ছেলে টিটু ছৈয়াল (৩১), পাঁচক গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ ছৈয়ালের ছেলে মো. রাজ্জাক ফকির (৩৩), রশিদ সরদারের ছেলে আবু সরদার (৩৮), সদর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত লোকমান ফকিরের ছেলে ইসলাম ফকির (২৪), মৃত ছামাদ মণ্ডলের ছেলে রাকিব মণ্ডল (২৪) ও শাহআলম তালুকদারের ছেলে সবুজ তালুকদার (২২)।

রায় ঘোষণার সময় আসামি টিটু, রাজ্জাক ও আবু সরদার কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ছিলেন। রায়ের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আর আসামী ইসলাম, রাকিব ও সবুজ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

আরও পড়ুন : ১৮ ঘণ্টায় ২৫ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ করে বিশ্বরেকর্ড

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজে চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান থেকে ১৩ বছরের বয়সী ওই কিশোরী সহপাঠী মইন ও রনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আনাখন্ড বেইলি ব্রিজের পাকা সড়কে পৌঁছলে আসামি টিটু, রাজ্জাক ও আবু সরদারা মিলে মইন ও রনিকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে আহত করে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে। ওইদিন রাতে আসামি টিটুর বাড়িতে ওই কিশোরীকে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। চিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় মামলা করে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ৩০ জুন ১৪ বছরের ওই কিশোরীর বাড়ি ছিল নড়িয়া উপজেলায়। নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে জাজিরার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় পরিবারটি। ওই কিশোরী বিকেলে তার এক আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসেন। তখন সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক ইসলামের সঙ্গে। ইসলাম ওই কিশোরীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তার বন্ধু রাকিব মণ্ডল ও সবুজের সাথে অটোরিকশায় তুলে দেয়। রাকিব ও সবুজ মেয়েটিকে নিয়ে মনোহর বাজারে যান। পরে রাকিবের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে মেয়েটির মুখ বেঁধে রাকিব ও সবুজ প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে যায় ইসলাম। রাতে ইসলামও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পুনরায় ধর্ষণ করা নিয়ে ইসলামের সঙ্গে রাকিব ও সবুজের কথা কাটাকাটি হয়। তখন ইসলাম মেয়েটিকে তাদের বাড়ির পাশের শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুর ঘাটে নিয়ে যায়। পুকুর ঘাটে নিয়েও মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরীকে পুলিশ উদ্ধার করে। রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন : ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মা-বাবা, মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করল আকাশ

নড়িয়া থানা ও পালং মডেল থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য গেলে আদালত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

শরীয়তপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা হজরত আলী জানান, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS