বরের বয়স ১০৭  কনের  ১০২

প্রকাশ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:২৩

দিনাজপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ছবি সংগৃহীত

ভালবাসার যেমন কোনও বয়স নেই। ঠিক তেমনি পুনরায় ঘর বাঁধতেও বয়স লাগে না। উজ্জিবিত এই প্রবীণ দম্পত্তি জীবন আয়ুর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ইতিহাসের রচিত করলেন।

এমন চমকে দেওয়ার মতো ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে।

এই প্রবীণ দুই নর-নারী পুনবার বিয়ে করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচিত হয়েছেন।

সম্পর্কের স্তর শেষ হবার কারণে অর্থাৎ পাঁচসিঁড়ি পার করার কারণে এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন বিয়ের আয়োজক ও স্থানীয়রা।

আলোচিত দম্পত্তির ১০৭ বছর বয়সী প্রবীণ এ বরের নাম বৈদ্যনাথ দেবশর্ম্মা এবং ১০২ বছর বয়সী কনের নাম পঞ্চবালা দেবশর্ম্মা।

গেলো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার  আট নম্বর ধর্ম্মপুর ইউপি’র দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামে ঘটা করে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এ বিয়ের আয়োজন।

বিয়েতে গীত, গায়ে হলুদ, পুরহিত, মণ্ডপ তলা, বৌ-ভাত, বাসর ঘর, বাদ্য-বাজনা, সাজ সজ্জা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও ভুড়িভোজ কোনটারই কমতি ছিল না। বিশেষ করে প্রবীণ এ বর কনেকে একনজর দেখার জন্য এলাকার উৎসুক জনতার ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।

প্রবীণ বর বৈদ্যনাথ দেবশর্ম্মা জানান, ওই গ্রামের স্বর্গীয় পিতা ভেলশু নাথ দেবশর্ম্মা ও স্বর্গীয় মাতা ভুলে বালা দেবশর্ম্মার পুত্র তিনি এবং কনে পঞ্চ বালা দেবশর্ম্মাও একই এলাকার স্বর্গীয় বিদ্যা মণ্ডল দেবশর্ম্মা ও স্বর্গীয় শুভ বালা দেবশর্ম্মার কন্যা। তিনি বলেন, গত প্রায় ৯০ বছর আগে তাদের সামাজিকভাবে হিন্দুধর্মের রীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়। এরপর সংসার জীবনে বিয়ের প্রায় তিন বছরের মাথায় কোল আলো করে আসে এক কন্যা সন্তান। কন্যার নাম রাখা হয় ঝিলকো বালা দেব শর্ম্মা। কন্যা ঝিলকো বড় হলে তাকে রীতিমত পাত্রস্ত করা হয়। বিয়ে দেওয়ার কয়েক বছর পর কন্যার একটি আদরী বালা নামের কন্যা সন্তান অর্থাৎ নাতনীর জন্ম হয়। নাতনি আদরী বালাও বড় হলে তাকেও বিয়ে দেওয়া হয়। নাতনীর বিয়ের পর তার কোল জুড়ে রেখা বালার জন্ম হয়। ফলে এই দম্পত্তি সর্ম্পকে বড় বাবা ও বড় মা হয়। এরপর রেখা বালা বড় হলে তাকেও বিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক বছর পর তারও একটি রুমি বালা নামের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সে নাতনির নাতনি। রুমি এই দম্পতির সর্ম্পকে কি হবে বা কি বলে ডাকবে ? তার সঙ্গে সর্ম্পকের স্তর শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় এখনও বেঁচে আছি। সর্ম্পকের পঞ্চমস্তর বা পাঁচসিঁড়িতে অবস্থান করছি। আমরা দু’টি মানুষ থেকে বর্তমানে আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।

১০২ বছর বয়সী কনে পঞ্চবালা দেবশর্ম্মা জানান, অনেক ছোট বেলায় তাদের বিয়ে হওয়ায় তার অনেক কিছুই মনে নেই। কিন্তু বর্তমানে পুনবিয়েতে অনেক আনন্দ ও অন্যরকম অনুভূতি পেয়ে বসেছে বলেও তিনি জানান।

এলাকাবাসী অনেকে জানান, দম্পত্তি যদি জীবিত থাকে এবং সম্পর্কের পাঁচসিঁড়িতে অবস্থান করে তাহলে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী পুনরার বিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই ওই প্রবীণ দম্পত্তির পুনরার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম্মপুর ইউপি শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র সরকার জানান, আমিসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ আলোচিত বিয়ের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলো। বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি সকলের প্রাণচাঞ্চল্যতা লক্ষ্য করেছি। সবাই একটি অন্যরকম আনন্দ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই প্রবীণ দম্পত্তির পুন বিয়েটা একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।

ধর্ম্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার প্রবীণ দম্পত্তির পুন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর বৈদ্যনাথের কন্যা সন্তান ছাড়া ছেলে  সন্তান নেই। কন্যার কন্যা এভাবে তিনি পাঁচপীড়িতে অবস্থান করছেন। আসলেই এই বিয়েটা একটি ইতহাস হয়ে থাকলো।

পরে এই আলোচিত বিয়ের বৌভাতেরও অনুষ্ঠান করা হয়। বিয়ে ও বৌভাতের পুরো আয়োজনে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিত ঘটে বলে জানা গেছে।

জেবি