যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:১৭

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শরীয়তপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের খাদিজা আক্তার মধুকে (২০) যৌতুকের জন্য হত্যা করা মামলায় স্বামী এবাদুল হক মৃধাকে (২৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস ছালাম খান আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ আদেশ দেন। এছাড়া এবাদুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদর উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের ছমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল হক মৃধা। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬ সালে সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামের গোলাম মাওলা কাজীর মেয়ে খাদিজা আক্তার মধুর সঙ্গে একই উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের ছমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল হক মৃধার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই এবাদুল তার স্ত্রী মধুকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য মারধর করতো। 

গত ২০১৮ সালের ১৫ মে বিকেল ৫টার দিকে মধুর বাবার বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয় এবাদুল। যৌতুকের টাকা আনতে অস্বীকার করলে মধুকে প্রথমে মারধর করে, পরে বালিশ চাঁপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওইদিন স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে মধুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

এ ঘটনায় ১৬ মে নিহতর মা আমেনা বেগম (৫৬) বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানায় সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় মধুর স্বামী এবাদুল হক মৃধা, ভাসুর শাহ আলম মৃধা, দ্বীন ইসলাম মৃধা, সাইদুল মৃধা, শ্বশুর চমেদ মৃধা শাশুড়ি রিজিয়া বেগম, জা রুজিনা বেগমকে আসামি করা হয়। 

তদন্ত শেষে পালং মডেল থানার পুলিশ একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাতজন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ শেষে আসামি এবাদুল হক মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। অপর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর এবাদুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা হজরত আলী বলেন, যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রী মধুকে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী এবাদুল। আমি এ রায়ে খুশি হয়েছি।

এসএস