logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

গরিবের ঘর বাগিয়ে নেওয়া হলো না সুবহানের

গরিব×ঘর×চাকরি×জমি×প্রকল্প×যশোর×বাংলাদেশ×নির্মাণ×
ছবি আরটিভি নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি। তাই কৌশলে তিনি বাগিয়ে এনেছিলেন ‘গরিবের ঘর। শুধু নিজের জন্য নয় শ্বশুরের জন্যও আরেকটি। কিন্তু বিধিবাম। যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদক্ষেপে আটকে গেছে সব।

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সুবহান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মচারী। এ পরিচয়ে যেন তিনি মাটি দিয়ে হাঁটেন না। এলাকায় তার দাপটে কথা বলার সাহস পায় না অনেকেই। বাস্তবেও নজীর দেখিয়েছেন তিনি। ‘ঘর আছে বাড়ি নেই’ প্রকল্পের দুটি গরিবদের ঘর বাগিয়ে এনেছেন তিনি। একটি নিজ নামে অন্যটি শ্বশুরের নামে।

আরও পড়ুন : আরও ৪১৯ প্রবাসী লেবানন থেকে দেশে ফিরছেন

সরেজমিন দেখা যায়, তার নিজের সুবিশাল নতুন বাড়ি রয়েছে। আর ঘরের গাঁ ঘেষেই অসমাপ্ত রয়েছে প্রকল্পের একটি বাড়ি। এরপর কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে কেউটে।

এলাকাবাসী জানায়, তার বাড়ির আধা কিলোমিটার দুরেই পূর্বপাড়ায় অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়ি। তারও রয়েছে নিজস্ব পাকা বাড়ি। অথচ পাশেই চোখে পড়ে আরেকটি অসমাপ্ত সরকারি ঘর যা কিনা বরাদ্দ করে এনেছেন জামাই সোবহান।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ওই এলাকায় মাত্র চারশতক জমির ওপর ভ্যানচালক রবিউলের বসবাস। চার শতক জমির ওপর তারা ছয় ভাই বাস করেন। এ প্রকল্পের ঘরের জন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি করেছেন। একই এলাকার অসহায় আলী আহম্মেদ, ওসমান সকলেই আপ্রাণ চেষ্টা করে ঘর পাননি। অথচ পাকা বাড়ি থাকতেও ঘর পেয়েছেন ওই সোবহান। তাও আবার দুই দুটি। এসব বিষয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক জমির মালিক হয়েছেন।

আরও পড়ুন : নগ্ন ভিডিও উদ্ধারে প্রেমিককে ইনজেকশন, নারী গ্রেপ্তার

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোবহান বলেন, তিনি আবেদন করেছিলেন। সেজন্য পেয়েছেন। ঘর থাকতেও কেন আবেদন করেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাগন্বিত হয়ে ওঠেন।

যশোর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, এটা জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের কাজ। এখানে প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ ছিলো। প্রকল্পের এ কাজে এই দুটি ঘর সোবহান ঢাকা থেকে কোনও মাধ্যম দিয়ে অনুমোদন নিয়ে এসেছিলো। কাজও শুরু হয়েছিলো। মাঝপথে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এ দুই ঘরে তাদের প্রায় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান আরটিভি নিউজকে বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। তার নজরে আসা মাত্রই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। নির্দেশনা আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন : নির্বাচনের দুই বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান

বর্তমানে ওই দুই ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। দুটি ঘরের একটিতে এখন রাখা হয়েছে গরুর বিচালী।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS