logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

এক মাদকাসক্ত ইউপি সচিবের কাঁধে দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব

মাদকাসক্ত×সচিব×ইউপি×কালিয়াকৈর×ইউনিয়ন×আগস্ট×মানুষ×নিউজ×
ছবি আরটিভি নিউজ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদকাসক্ত এক ইউপি সচিব পাশাপাশি দুই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন। এক সচিব পাশাপাশি দুই স্থানে দায়িত্ব পালনে ব্যাহত হচ্ছে জনসেবা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দুই পরিষদের মানুষ। এছাড়াও মাদকাসক্ত ওই সচিবের সংস্পর্শে পরিষদ দুটিতে থাকা অন্যান্য কর্মচারী, সেবা নিতে আসা যুবকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ মাদক সেবন ও ব্যবসায় ঝুঁকে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় লোকজন।

মাদকাসক্ত ওই সচিব হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার বেগমপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আ. রাজ্জাক।তিনি স্থানীয় সুত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও শ্রীফলতলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সচিব।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আ. রাজ্জাক গেলো ২০২০ সালের আগস্ট মাসে কালিয়াকৈর উপজেলার সুত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে যোগদান করেন। একই সময়ে ধরে পাশের শ্রীফলতলী ইউনিয়ন পরিষদেরও ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে তিনি উপজেলার অন্য ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তিনি সূত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদে সপ্তাহে তিন দিন এবং শ্রীফলতলী ইউনিয়ন পরিষদে দুই দিন সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি একসঙ্গে দুই স্থানে সচিবের দায়িত্ব পালন করার কারণে দুই ইউনিয়ন পরিষদেই নিয়মিত সময় দিতে পারেন না। ফলে দুই ইউয়িন পরিষদের জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি একসঙ্গে দুই ইউনিয়ন পরিষদে কিভাবে দায়িত্ব পালন করছেন? তিনি মাদকসেবন করতে করতে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন কিনা? এমন প্রশ্ন স্থানীয় লোকজনের। এছাড়াও তিনি একজন সরকারী কর্মচারী হয়েও স্ত্রী ও সন্তানদের কথা গোপন রেখে নানা প্রলোভনে একে পর একে তিনটি বিয়ে করেছেন। তার বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত হয়ে স্ত্রীদের মারধরসহ খুন-জখমের হুমকিও দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন খারাপ প্রকৃতির লোক ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ওই দুই পরিষদের অন্যান্য কর্মচারী, সেবা নিতে আসা যুবকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ মাদক সেবন ও ব্যবসায় ঝুঁকে পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

তিনটি বিয়ে বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত ওই সচিব আ. রাজ্জাক জানান, তিন বউয়ের মধ্যে দুই বউ তাদের বাবার বাড়ি চলে গেছে। তবে স্ত্রীদের মারধরের বিষয়ে আনিত অভিযোগ ঠিক নয়। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে মাদকের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটা মিথ্যা। তবে দুই পরিষদে কাজ করলেও একস্থান থেকে বেতন নিচ্ছি।

স্থানীয় শ্রীফলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, তিনি দুই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় কাজের সমস্যা হয়। তিনি কিছুটা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও তিনি একাধিক বিয়েও করেছেন। তবে এ বিষয়ে অপর স্থানীয় সুত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী বজলুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন আরটিভি নিউজকে জানান, লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি ভাগ করে অন্য ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। যদি তিনি সঠিকভাবে কাজ করেন, তাহলে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা নয়। তবে মাদকাসক্ততার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS