logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

মিজানুর রহমান বুলু, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:১৭
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:২৯

কোটালীপাড়ায় ৬০ ফুট উচ্চতার প্রতিমায় সরস্বতী পূজা

Saraswati worship at a 60 feet high idol at Kotalipara
কোটালীপাড়ার কান্দি গ্রামে ৫৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমায় সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়

সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে বিদ্যা, জ্ঞান, বাণী ও সুরের দেবী সরস্বতী। প্রতি বছর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ি বাড়ি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছরের মতো এ বছরও এ পূজায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের শ্রী শ্রী রাধাগবিন্দ ও গণেশ পাগল সেবাশ্রম ৬০ ফুট উচ্চতার প্রতিমায় সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। ইউনিয়নের কান্দি গ্রামেও এবার প্রথমবারের মতো ৫৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমা গড়ে পূজার আয়োজন করেছেন গ্রামের তরুণরা।

আজ মঙ্গলবার ধর্মীয় উৎসবের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন শত শত ভক্ত। এসময় ঢাক, ঢোল, কাশির বাদ্য ও উলুধ্বনিতে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

আমবাড়ি গ্রামের আয়োজকদের দাবি, এটিই হচ্ছে এ উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমায় সরস্বতী পূজা। এই পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন প্রতিমাশিল্পী শ্রীবাস গাইন।

এই পূজা দেখার জন্য আশপাশের এলাকার পাশাপাশি বরিশাল, পিরোজপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট, খুলনা, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আত্মীয়-স্বজন এসেছেন এ গ্রামে পূজা দেখার জন্য। এই পূজাকে কেন্দ্র করে বসেছে তিনদিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা। আয়োজন করা হয়েছে ধর্মীয় যাত্রাপালা ও কবি গানের।

প্রতিমাশিল্পী শ্রীবাস গাইন বলেন, আমি আমার ১০ জন সহকারীকে নিয়ে এক মাস ধরে এ প্রতিমাটি নির্মাণ করেছি। আমি এর আগেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রতিমা তৈরি করেছি। আমি এ ধরনের প্রতিমা তৈরি করতে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে থাকি। কিন্তু এটা আমার গ্রামের পূজা। আমাকে আয়োজকরা যা দিবে আমি তাতেই খুশি। তবে আমি এর আগে গত বছর ৫৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি করেছি। ৬০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা এটাই প্রথম।

পুরোহিত গোলক চন্দ্র গাইন (৫৬) বলেন, আমি ২২ বছর ধরে পূজা করি। কিন্তু এতো বড় প্রতিমায় কোনও দিন পূজা করিনি। আমার আজকে অনেক স্থানে পূজা করার কথা ছিল, কিন্ত সব বাদ দিয়ে এখানে পূজা করতে এসেছি। এতো বড় প্রতিমায় পূজা করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।

পূজা কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ মণ্ডল (৪১) বলেন, আমরা এলাকার যুবকরা মিলে এই পূজার আয়োজন করেছি। গত বছর আমরা ৫৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমায় সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছিলাম। এ বছর ৬০ ফুট উচ্চতার সরস্বতী প্রতিমায় পূজার আয়োজন করেছি। আমাদের এই পূজায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হবে। আমরা এ ধরনের পূজার আয়োজন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কালীপদ গাইন বলেন, এ পূজা দেখার জন্য বাগেরহাট জেলা থেকে আমাদের বাড়িতে অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছেন। এদেরকে নিয়ে আমরা সবাই আনন্দের মধ্যে দিয়ে পূজা উদযাপন করছি। আগামীতেও আমরা এ পূজা চালিয়ে যাব।

কোটালীপাড়ার আমবাড়ি গ্রামে ৬০ ফুট উচ্চতার সরস্বতী প্রতিমা

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিক প্রশান্ত অধিকারী বলেন, ৪ বছর আগে এই আমবাড়িতে ৩৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমা দিয়ে বড় পরিসরে এখানে পূজা শুরু হয়। এ বছর ৬০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা দিয়ে পূজা হচ্ছে। এজন্যে আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের এখানকার সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তাই এই উৎসবকে ঘিরে গ্রামীণমেলা ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের যে মিলনমেলা হয়, এটি আমাদের গ্রামীণজীবনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্যসাধারণ ঘটনা।

পিরোজপুর থেকে আগত রাজিব মণ্ডল বলেন, আমি আমবাড়ি গ্রামের জামাই। যখন জানতে পারলাম ৬০ ফুট উচ্চতার সরস্বতী প্রতিমায় পূজা হবে তখন এই পূজা দেখার জন্য স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে এলাম। আমার জীবনে এতো বড় সরস্বতী প্রতিমা দেখিনি।

কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার মধু বলেন, আমাদের ইউনিয়নে এতো বড় সরস্বতী পূজা হচ্ছে শুনে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আগামীতে যাতে এই পূজা আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়, তার জন্য দলের পক্ষ থেকে আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা করবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়া। এখানে আমরা হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করি। আমার জানা মতে এ উপজেলায় এ বছর ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পূজার আনন্দ আমরা হিন্দু মুসলমানরা ভাগ করে নেই।

পি

RTV Drama
RTVPLUS