logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে বেইলি ব্রিজের সংস্কার স্থগিত

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে বেইলি ব্রিজের সংস্কার স্থগিত

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে বরগুনার আমতলী ও তালতলী সড়কের আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রিজের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। দেবে যাওয়া স্টিলের পাটাতনের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়েছে স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ ও ঢাকাগামী পরিবহনসহ যানবাহন চলাচল করছে। গত এক মাস ধরে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত ব্রিজ সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা।

আমতলী থেকে তালতলী উপজেলা সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তালতলী সড়ক। ৪০ কিলোমিটার এই সড়কটির আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ১৯৮৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে। এ ব্রিজ দিয়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পারাপার হয়।

দুই উপজেলার সেতুবন্ধন এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা ও তালতলীগামী পরিবহন বাস, তালতলী আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাভার ভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাহেন্দ্র, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সহস্রাধিক গাড়ি পারাপার হয়। গাড়ি চলাচল করায় দিন দিন পুরাতন ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। এছাড়াও ব্রিজের পাটাতন আলগা হয়ে সরে গেছে।

ব্রিজের মাঝখানের পাটাতন দেবে গেছে। গত পাঁচ বছর ধরে বেইলি ব্রিজের এমন বেহাল দশায় পড়ে আছে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠেলাঠেলিতে ব্রিজের সংস্কার কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবী আমতলী-তালতলী সড়ক ও ব্রিজ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর দাবী করেছে ওই সড়ক ও ব্রিজ কাগজে কলমে এখনো পায়নি। এর ফলে দুই বিভাগের ঠেলাঠেলিতে ব্রিজের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গত ৪ জানুয়ারি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ১৬ দিন ধরে আমতলী-তালতলীর সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা ওই ব্রিজের স্টিলের পাটাতনে কাঠের পাটাতন দিয়ে সংস্কার করায় স্বল্প পরিসরে ছোট যান চলাচল করছে। এ কারণে জন দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে তালতলী থেকে ঢাকাগামী পরিবহন, আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাঁচামাল সরবরাহ কাভার ভ্যানসহ সকল ভারী যানবাহন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের মধ্যখানের পাটাতন দেবে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। স্থানীয়রা দেবে যাওয়া পাটাতনে কাঠের পাটাতন দিয়ে মেরামত করে দিয়েছে। এতে ওই ব্রিজ দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করছে।

গাবতলী গ্রামের মো. মতিয়ার রহমান খান বলেন, ব্রিজে গাড়ি উঠলে ব্রিজ ঠকঠক করে। মনে হয় এখনি ব্রিজ নদীতে ভেঙে পরবে। দ্রুত ওই ব্রিজটি নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

বাস গাড়ি চালক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ব্রিজ মেরামতের কাজ না হওয়ায় গাড়ি নিয়ে তালতলী যেতে পারছি না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি আমতলী এবং তালতলী দুই উপজেলার দায়িত্বে আছি। ওই ব্রিজের দুরবস্থার চিত্র প্রতিদিন আমি প্রত্যক্ষ করি। ওই ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফোরকান আহম্মেদ বলেন, ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই সড়কের সকল ব্রিজ তারা সংস্কার করবে। এখানে আমার কিছুই করার নেই।

বরগুনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জমান বলেন, ওই ব্রিজের দুরবস্থার খবর জানি কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।

জিএম/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS