logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

২৮ মণ মাংস দিয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পিকনিক

চট্টগ্রাম×হাতিয়া×মণ×ডাল×ঐতিহ্য×অংশগ্রহণ×ভাসানচর×বালিশ×
ছবি আরটিভি নিউজ

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মহিলার অংশগ্রহণে ছিলো ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। দুপুরে খাওয়ানো হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান।বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ভাসানচরে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের বিনোদনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পিকনিকের ব্যবস্থা করেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। ভাসানচরে পাঁচ নম্বর ক্লাস্টারের পাশে খেলার মাঠে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করে এসব আয়োজন করা হয়।

এজন্য চট্টগ্রাম থেকে আনা হয় ১৫জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি। তারা ২৮ মণ মাংস ও দুই মণ ডাল দিয়ে তৈরি করেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। যা দিয়ে দুপুরে খাওয়ার খায়ানো হয় তিন হাজার ৭৫২ জন রোহিঙ্গাসহ চার হাজার লোককে।

এর আগে সকালে রোহিঙ্গা শিশুদের অংশগ্রহণে ছিলো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

যাতে শিশুরা দৌড়, মোরগের লড়াই, রশি টানাটানিসহ নানান প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেন। মহিলাদের বালিশ খেলা ছিল চোখে পড়ার মত। এজন্য মাঠের মাজখানে বেশ কিছু চেয়ার দিয়ে তৈরি করা হয় খেলার প্যান্ডেল। বালিশ খেলায় অংশ নিতে আসেন মিনোয়ারা বেগম ( ৩০)। তিনি বসবাস করেন ১০ নম্বর ক্লাস্টারের ১৩ নম্বর বাসায়। আলাপকালে মিনোয়ারা জানায়, ভাসানচর আমাদের কাছে খুবই ভালো লাগে। তবে কাজ না থাকায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে। আজকের এই আয়োজন আমাদের সকলকে অনেক আনন্দ দিয়েছে।

ছামোচের মধ্যে মারবেল দিয়ে দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম হয়েছে ঊর্মী নামের ৯ বছরের এক রোহিঙ্গা শিশু। সে বসবাস করে ক্লাস্টারের নম্বর বাসায়। আলাপ কালে উর্মির ভাই রাকিব (১৫) জানায় আজকে আমাদের কাছে ঈদের মত মনে হয়েছে। সবাই অনেক আনন্দ করেছি।

বিকেলে ভাসানচরের রোহিঙ্গা মিউজিক ক্লাবের শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

যাতে রোহিঙ্গাদের জীবন মান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রোহিঙ্গা শিল্পীরা বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। এ সময় মাঠের চার পাশে অবস্থান করা নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা শিল্পীদেরকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।

সব শেষে বিভিন্ন খেলায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করা রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষদের পুরষ্কৃত করা হয়।

এদিকে প্রথম দাপে ১৬৪২জন, দ্বিতীয় দাপে ১৮০৪ জন রোহিঙ্গা সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ইচ্ছায় ভাসানচর আসেন। এর আগে পালিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় নৌ-বাহিনীর সদস্যরা আটক করে ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে আসে। এ নিয়ে মোট তিন হাজার ৭৬২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে অবস্থান করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS