logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

গাজীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২১ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৫১
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৫৮

বিনা অপরাধে ৫ বছর জেল খেটে মুক্তি পেলেন আরমান

জেল×আরমান×গাজীপুর×রাজধানী×সহযোগী×ককটেল×অস্ত্র×তিনজন×
ছবি সংগৃহীত

বিনা অপরাধে পাঁচ বছর কারাগারে আটক থাকা রাজধানীর পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে হাইকোর্টের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কাশিমপুর-২ থেকে মুক্তি দেয়ার পর তাকে পরিবারের লোকজন বাড়ি নিয়ে যায়।

কাশিমপুর জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, ২০০৫ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে এক মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আসামিদের দেওয়া তথ্যে তাদের সহযোগীদের ধরতে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিকী পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পের এক বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন বিহারি ও তার দুই সহযোগী আটক হয়। এ ঘটনায় পল্লবীর থানায় মামলা হয় মাদকদ্রব্য আইনে। পরে ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শাহাবুদ্দিনসহ গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ২০০৭ সালের পাঁচ মার্চ জামিনে মুক্ত হন শাহাবুদ্দিন।

২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আবার জামিন আবেদন করেন তিনি। এতে জামিন মেলে তার। এরপর ফেরারী হয়ে যান শাহাবুদ্দিন। দুই সহযোগী থেকে যান কারাগারে। ২০১২ সালের ১ অক্টোবর মামলায় শাহাবুদ্দিন ও তার দুই সহযোগীর প্রত্যেককে ১০ বছরের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী ঢাকার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারুক আহম্মদ।

এরপর পলাতক শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ঘটনার দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর ১৩ হাউস, ব্লক-এ, সেকশন ১০ নম্বর এলাকায় অভিযান চালায় পল্লবী থানার পুলিশ। এ অভিযানে ছিলেন তৎকালীন ওই থানার এসআই রাসেল, যিনি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানায় কর্মরত। আরমান বাসায় নাশতা সেরে চা পানের জন্য পাশের একটি চায়ের দোকানে যান। অভিযানকারীরা সেখান থেকে শাহাবুদ্দিনের বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

এরপর থেকে আরমানকে কাশিমপুর কারাগার-২ এ রাখা হয়। আইনজীবী হুমায়ূন কবির পল্লবের এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গেলো ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো.মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আরমানকে মুক্তি দেয়াসহ তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশ দেন। বিনা অপরাধে জেলা খাটার বিষয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন আরমান ও তার স্বজনরা।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS