logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১০:২৪
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৩১

কুয়াশায় বন্দী কুড়িগ্রামের জনজীবন

Public life in Kurigram imprisoned in fog
কুয়াশায় বন্দী কুড়িগ্রামের জনজীবন, ছবি: প্রতিনিধি
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের জনজীবন এখন কুয়াশা বন্দী। আজ (বুধবার) থেকে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার জীবনযাত্রা। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করলেও অবলম্বন করতে হচ্ছে বিশেষ সাবধানতা। 

গেল তিনদিন থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি এ জেলায়। দুপুরে সামান্য বিরতি দিয়ে বিকেল থেকেই পড়তে থাকে কুয়াশার চাদর। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝড়তে থাকে শিশির। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া। ফলে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে এই জনপদকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। 

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা রয়েছে, সকাল ৬টায় খালি চোখে দৃষ্টি সীমানা ছিল ২০০ মিটার। এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া, ছিন্নমূল ও চরাঞ্চলের মানুষ। সকালে কাজে যোগ দেওয়া শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে দ্বিগুণ। ঘন কুয়াশার কারণে তারা সময়মতো কাজে যোগ দিতে পারছে না। কৃষকরাও দুর্ভোগে পড়েছে। চলতি ইরি-বোরো চাষের মৌসুম শুরু হলেও শীতের কারণে ক্ষেতে চারা রোপণে কালক্ষেপণ হচ্ছে। এদিকে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ঘন কুয়াশার কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়বৃদ্ধরা। 

অটোরিকশাচালক করিম মিয়া জানান, তিনদিন থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে রাস্তা-ঘাট। সকাল দশটা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। শীতের কারণে যাত্রী কমে গেছে। 

দিনমজুর আয়ুব আলী জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাত-পা গুটিয়ে যায়। ফলে সকাল সকাল কাজে যোগ দিতে পারছেন না। 

সোনাহাট স্থলবন্দর শ্রমিক রাবেয়া, আয়ভান, কোহিনূর জানান, তাদের কাজে যোগ দেওয়ার সময় ৮টা। বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে হয়। তাই তাদের সকাল সাতটার মধ্যে বের হতে হয়। এখন প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশায় তাদের বের হতে অনেক কষ্ট হয়। 

কৃষক আব্দুল শহিদ বলেন, ইরি চাষের ক্ষেত প্রস্তুত থাকলেও শীতের কারণে চারা রোপণে বিলম্ব হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
পি

RTV Drama
RTVPLUS