logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

ভূমি অফিসের লাল পতাকায় বিপাকে ভূমিহীন পরিবার

Landless family, in red flag of land office, rtv news
যশোর
সরকারি বন্দোবস্ত দেওয়া জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে স্থানীয় ভূমি অফিস। এতে করে বিপাকে পড়েছেন ভূমিহীন দুটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামে।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর মৌজায় ভূমিহীন আমির আলী ও মোসলেম ফকিরের নামে ২০ শতক করে ৪০ শতক জমি বন্দোবস্ত দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক।

এরপর জেলা প্রশাসকের কাছ ৯৯ বছরের জন্য ওই জমি বন্দোবস্ত পান তারা।  বন্দোবস্ত দেওয়া এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে আমির আলী ও মোসলেম ফকির চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০১২ সালে ওই জমিতে তারা একটি আমের বাগান করেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজন। তারা জমির সীমানা নির্ধারণও করে দিয়েছেন।   ভূমি অফিস থেকে জানা গেছে, ভূমিহীনদের জন্য বাড়ি-ঘর করা হবে। এজন্য জমি তাদের ছেড়ে দিতে হবে।

তবে জমির দখলদার ভূমিহীন আমির আলী ও মোসলেম ফকিরের স্বজনরা জানান, তাদের কোথাও কোনও জমি নেই। এই জমির আয়ে তাদের সংসার চলে। এখনও অন্যের জমিতে তারা বসবাস করেন। এই জমি চলে গেলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।

তারা বলেন, শ্রীধরপুর মৌজায় ২৮৬ নম্বর দাগের ৪১৭ নং খতিয়ানে দুই জনের নামে ২০ শতক করে ৪০ শতক জমি সরকার বন্দোবস্ত দেয়। এখন সরকারি লোক এসে তাদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে আমের বাগান করা হয়েছে। এই আমের বাগানই একমাত্র সম্বল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আমির আলী ও মোসলেম ফকিরে জমিতে রয়েছে একটি আমের বাগান। আর ওই জমিতে লাল নিশানা টাঙানো রয়েছে। এ জমির আশে-পাশে সরকারি বন্দোবস্ত দেওয়া আরও জমি রয়েছে। ওই সব জমিতে বন্দোবস্ত পাওয়া মানুষ চাষাবাদসহ ভোগ দখল করছে। অন্য কোনও জমিতে লাল নিশানা টাঙানো হয়নি। আমির আলী ও মোসলেম ফকিরের জমিতেই লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। 

ভূমিহীন আমির আলী বলেন, সরকার যখন ভূমিহীনদের ভূমি দিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই একটি মহল ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি ২৯ বছর এ জমিতে চাষাবাদ করে ভোগ দখলে আছি। বিভিন্ন সময় সমস্যা হলেও স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। কোনও সমস্যা হয়নি। এখন সরকারি লোক এসে আমাদেরকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করছে।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এসব হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার।

অভয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনও ভূমিহীনকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা দাবি করছেন, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, বিষয়টি সঠিক না। তাদের জমি বাদ রেখে সরকারি খাস জমিতে লাল পতাকার নিশানা টাঙানো হয়েছে। অভয়নগরে আরও যারা ভূমিহীন আছে তাদের সেখানে জমি দেওয়া হবে। সরকারিভাবে ঘর দেওয়া হবে।

জমির বিষয়ে জানাতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাপ্পী জানান, ওই জমি নিয়ে এক সময় বিরোধ ছিলো। আমি সেই বিরোধ মিটিয়ে ওই জমি আমির আলী ও মোসলেম ফকিরের দখল বুঝিয়ে দিই। ওইখানে আমির আলী ও মোসলেম ফকিরের নামে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া জমি আছে। তবে অ্যাসিল্যান্ড অফিস থেকে কিভাবে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিলো সে সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা বলেন, আমির আলীর নামে ২০ শতক ও মোসলেম ফকিরের নামে ২০ শতক করে ৪০ শতক জমি সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেয়। তাদের ওই স্থানে ৪০ শতক জমি আছে।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS