ভুয়া অভিভাবক সেজে হত্যা মামলা দিয়ে আট পরিবারকে বিড়ম্বনা (ভিডিও)

প্রকাশ | ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:৫৯ | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:০৪

জয়পুরহাট ও বগুড়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ভুয়া অভিভাবক সেজে হত্যা মামলা দিয়ে আট পরিবারকে বিড়ম্বনা

শাপলাকে লেবু ও তার সহযোগীরাই হত্যা করেছে।  তারাই ভুয়া অভিভাবক সেজে হত্যা মামলা দিয়ে ১৮ বছর ধরে ফাঁসিয়ে চলেছেন আট পরিবারকে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও সেই তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

এমন ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার মোলামগাড়ীহাটে। মামলাটি তদন্ত করছে জয়পুরহাট সিআইডি। স্থানীয়রা ছেলে লেবু ও বাবা নছিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অপরদিকে লেবুর মা রেখা জানান, আগেই লেবুর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছিলেন শাপলার মা।

২০০৩ সালে বগুড়া থেকে শাপলা খাতুনকে দ্বিতীয়বার অপহরণের পর জয়পুরহাটের কালাই থানার মোলামগাড়ীহাটে এনে এসিড ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন লেবু ও তার সহযোগীরা। পরে হত্যার অভিযোগ থেকে বাঁচতে এবং প্রতিবেশী ৯ জনকে ফাঁসাতে বাবাকে দিয়ে মিথ্যা হত্যা মামলা করান লেবু। অন্যদিকে, মেয়ে শাপলার হত্যা বিচার চেয়ে লেবুকে প্রধান আসামি এবং বাবা নছির উদ্দিনকে দ্বিতীয় আসামি করে ৯ সহযোগীর বিরুদ্ধে বগুড়ায় মামলা করেন মা ফিরোজা বেগম। শাপলাকে অপহরণের প্রথম মামলায় জেল খাটার প্রতিশোধ নিতেই বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দ্বিতীয়বার অপহরণের পর শাপলাকে হত্যা করেন লেবু। 

লেবুর মা রেখা জানান, মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে শাপলার মা ফিরোজা বেগম লেবু-নছিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বগুড়ায় হত্যা মামলা করেন। শাপলাকে হত্যার আগে প্রথম অপহরণ মামলায় লেবু দীর্ঘদিন জেলে থাকলেও গণমাধ্যমে অস্বীকার করেন লেবুর মা।

হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লেবুর মা রেখা বলেন, হত্যার আগে দ্বিতীয়বার শাপলাকে অপহরণের পর লেবু ও তার সহযোগীরাই শাপলাকে হত্যা করেছে।
১৮ বছর ধরে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানো নিরীহ মানুষগুলোর এখন অসহায়। এজন্য বাপ-ছেলে লেবু-নছিরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন স্থানীয়রা।

জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার স্থানীয় দুই নম্বর জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, নছির উদ্দিনের মামলায় নিরীহ লোকদের ফাঁসাতেই আসামি করা হয়েছে।

জয়পুরহাট সিআইডি তদন্তের মাধ্যমে শাপলা হত্যাকারী বাপ-ছেলে লেবু ও নছির উদ্দিনসহ দায়ীরা গ্রেপ্তার হবেন এবং হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষদের ফাঁসানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্থানীয়দের।
পি