বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কোপানোর অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে

প্রকাশ | ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৯:২৪

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী
টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান ওরফে শিমু মীরা ও তার স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য খাদিজা আক্তার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাঁদার টাকা না দেয়াতে বিসমিল্লাহ ইটভাটার মালিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে বিসমিল্লাহ ইটভাটার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। 

আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহআলম হাওলাদারের (৬৪) বাড়ি চাকামইয়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে।

জানা গেছে, তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে আমতলী হাসপাতালে এবং পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখন সেখানেই (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী আকলিমা বেগম বাদী হয়ে রোববার রাতে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা  করেন। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান ওরফে শিমু মীরা ও তার স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য খাদিজা আক্তারকে রোববার রাত ২টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রাম থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় নেছার হাওলাদার, নাঈম ও ইমরান নামে আরও কয়েকজনকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

আহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ও আমতলী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু সালেহ বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার ইটভাটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমু মীরা ও তার স্ত্রী এলিজার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী আমার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। হামলার এক পর্যায়ে বাবা বাঁচার জন্য দৌঁড়ানোর চেষ্টা করলে পড়ে যায়। তখন ওদের হাতে থাকা রামদা দিয়ে কোপায়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত ও জখম হয়েছে।  

এদিকে আজ (৩০ নভেম্বর) গ্রেপ্তার হওয়া টিয়াখালী ইউপির চেয়ারম্যান শিমু মীরার মুক্তির দাবিতে বেলা ১১টায় টিয়াখালীর ইউপি সদস্য আবদুস সোবাহান বিশ্বাস, মো. আল আমীন মৃধা, মো. ইব্রাহিম মিয়া, খোকন প্যাদা ও মো. ইসমাইল হাওলাদারের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের দুই শতাধিক সমর্থক পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে মিছিলকারীরা কলাপাড়া থানার সামনে গিয়েও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের ধাওয়ায় বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। 

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। রাতেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

জিএম/এসএস