Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮

চাঁদপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৫:২৫
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৫৫

প্রেমিকের বাড়িতে অন্তরার অনশন সফল হলো

Antara's hunger strike, was successful, rtv news
বিয়ের পিঁড়িতে অন্তরা

নারায়ণগঞ্জের মেয়ে অন্তরা সরকার (১৮) বিয়ের দাবিতে চাঁদপুরের কচুয়ায় প্রেমিকের বাড়িতে অনশনের পর ঘুমর ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ নাগাত প্রেমিক শম্ভু সরকারকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে বাধ্য করলেন। গতকাল বুধবার রাত ১০টায় কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের বড়-হায়াতপুর গ্রামে সরকার বাড়িতে পারিবারিকভাবে প্রেমিক শম্ভু সরকারের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে প্রেমিকা অন্তরা সরকারের। বিয়েতে দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। আর এই বিয়ের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের মেয়ে অন্তরা সরকার ও চাঁদপুরের ছেলে শম্ভু সরকারের দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সর্ম্পকের সফলতা এলো।

এলাকাবাসী জানান, গেলো ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার লিটন সরকারের কলেজপড়ুয়া মেয়ে অন্তরা সরকার পরিবারের কাউকে না বলে বিয়ের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার প্রেমিক কচুয়া উপজেলার বড় হায়াতপুর গ্রামের সরকার বাড়ির পরেশ সরকারের ছেলে শম্ভু সরকারের বাড়িতে চলে আসে। এ সময় শম্ভুর ঘরে লোকজন না থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মানিক হোসেন একই বাড়ির গ্রাম পুলিশ সুনীল সরকাররে ঘরে মেয়েটিকে আশ্রয় দেয়। এ সময় উৎসুক জনতা মেয়েটিকে একনজর দেখার জন্য ছেলের বাড়িতে ভিড় জমায়।

একপর্যায় মেয়েটি ঘুমের ওষুধ খেলে কচুয়া থানার এসআই মো. মামুনুর রশিদ সরকার মামুন ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন। এ সময় মেয়েটির হাত ব্যাগে কিছু ঘুমের ওষুধের খালি পাতা এবং তার পরিবারকে লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়।

এর আগে অন্তরা সরকার জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে শম্ভু সরকার আমার সঙ্গে সম্পর্ক করে আসছেন। এরপর হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি আমি শম্ভুকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে তিনি আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার কোনও প্রকার খোঁজ না পেয়ে আমি বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে এসেছি।

মেয়েটির সঙ্গে শম্ভু সরকারের সম্পর্ক ছিলো বলে প্রেমিক শম্ভু সরকারের মা জানিয়ে বলেন, বিয়েতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমার বড় ছেলে ঢাকা থেকে এসেছে। মেয়ের অভিভাবকরা এসেছে। দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এ বিয়ে হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক হোসেন বলেন, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভর নির্দেশে একজন ইউপি সদস্য হিসেবে মেয়েটিকে নিজের হেফাজতে রেখে বিয়ে দিতে পেরেছি।

কচুয়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো. মহিউদ্দিন জানান, মেয়েটি ঘুমের ওষুধ খেলে থানার এসআই মো. মামুনুর রশিদ সরকার মামুনসহ ফোর্স পাঠিয়ে ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দু’পক্ষের অভিভাবকসহ এলাকার লোকদের উপস্থিতিতে পারিবারিক মতামতের ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জেনেছি।

বিয়েতে উপস্থিত কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, একদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বুধবার গভীর রাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বর শম্ভু সরকারের বাড়িতে হিন্দুধর্ম মতে পুরোহিতের মাধ্যমে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক হোসেনের উপস্থিতিতে শম্ভু সরকার ও অন্তরা সরকারের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর তাদের জীবন যেন ভালভাবে কাটে এটাই এলাকাবাসী প্রত্যাশা।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS