logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

চসিক নির্বাচন

ডিসেম্বরে নির্বাচন চান রেজাউল, করোনার কথা ভাবছেন শাহাদাত

Rezaul wants elections, by December, Shahadat says,rtv news
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার শাহাদাত হোসেন
স্থগিত হয়ে থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণার পক্ষে মত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী চান ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হোক। তবে করোনার ঝুঁকি বিবেচনা করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের কথা বলছেন বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।  আর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন বর্তমান প্রশাসকের ১৮০ দিনের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই বছরের  ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের কথা ছিল।এর মধ্যে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশেও। পরে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ২১ মার্চ ভোটগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন।

এরপর কেটে গেছে  প্রায় ১০ মাস। এর মধ্যে সংক্রমণ না কমলেও মানুষের মধ্যে করোনা ভীতি কমেছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংসদ উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবার করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে দ্বিমত রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যেও।

আবদুল্লাহ আল নোমান নামের এক ভোটার বলেন, এখন আবার করোনা সংক্রমন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এখন ভোট নিলে কতটুকু স্বাস্থ্যবিধি মানা যাবে এটা একটা চিন্তার কারণ। এখন নির্বাচন না হলেই ভালো হবে।

সারোয়ারে আলম নামের এক ভোটার বলছেন, নির্বাচন কমিশনার ভোটের তারিখ ঘোষণা করলে ভোট দিতে কেন্দ্র যাব। আর করোনাকালে যদি ভোটের তারিখ দেয়া হয় স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টা মাথায় রেখে যেন সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় । নাগরিক সুবিধার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দরকার।

এদিকে, গেলো ৫ আগস্ট মেয়াদ শেষে বিদায় নেন চসিকের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং ৪১ জন সাধারণ ওয়ার্ডের ও ১৪ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর আগেই সরকার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে চসিকের প্রশাসক হিসেবে ১৮০ দিনের জন্য দায়িত্ব দেন। গেলো ছয় আগস্ট সুজন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে।

চসিক নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান আরটিভি নিউজকে  বলেন, বর্তমান প্রশাসকের ১৮০ দিনের  মেয়াদকালের মধ্যেই নির্বাচন হবে। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে আমরা প্রস্তুত আছি, যখনই তারিখ ঘোষণা করা হোক না কেন, আমরা নির্বাচন করে ফেলতে পারব।’

নির্বাচন কমিশন তারিখ ঘোষণা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা নির্বাচন করে ফলতে পারবো । নির্বাচন কমিশন যেভাবে নির্দেশনা দেয় সেভাবেই আমরা কাজ করব।

নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র  প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী আরটিভি নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষতো কষ্টে আছে। জন্ম সনদ-ওয়ারিশ সনদসহ নাগরিক যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা তা ভালোভাবে পাচ্ছে না। কাউন্সিলরসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায়  মোটা দাগে সেবা থেকে তো তারা বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার। তাই এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী  রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, ‘গেল এক মাসে  পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচন  হয়ে গেছে। দোকান-পাট, অফিস, এমনকি সিনেমা হল পর্যন্ত খোলা। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে।  বিয়ে-মেজবান হচ্ছে। আর মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে প্রথমদিকে যে আতঙ্ক ছিলো তা কমে গেছে। তাই এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে  স্থগিত হওয়া নির্বাচন শেষ করার জোরালো দাবি জানান  রেজাউল করিম।

অবশ্য দ্রুত নির্বাচনের চেয়ে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন  বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি আরটিভি নিউজকে  বলেন, আসছে শীতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাই করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ।

তিনি বলেন, যেহেতু বিশ্বব্যাপী করোনাকালীন দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারে সতর্ক করছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংখ্যা। তাই করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।  

বিএনপি প্রার্থী ডা., শাহাদত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে হারিয়ে যাওয়া ভোটের সংস্কৃতিটা ফিরিয়ে আনতে হবে। একটি  সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর মানুষ  নির্বাচন  নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেন ডা. শাহাদাত। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ভোটের উৎসবটা ফিরিয়ে দিতে হবে। 

শাহাদত আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, আমরাও চাই নির্বাচন হয়ে যাক । তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা  চান তিনি।

নগরীর ২৫  নম্বর  রামপুরা ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন আরটিভি নিউজকে বলেন,  করোনার প্রাদুর্ভাব ফের বাড়ছে। করোনা কোন পর্যায়ে যায় তা বলা যাচ্ছে না। ভোট আয়োজন দরকার আবার সাধারণ মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়াও দরকার। নির্বাচন কমিশন যা ভালো মনে করে তার পক্ষে আছি।

লালখানবাজার-জামালখান-বাগমনিরাম সংরক্ষিত ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত  কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ারা বেগম মণি বলেন, দ্রুত নির্বাচন হয়ে গেলে ভালো। দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠানের দাবি জানান তিনি ।

তিনি বলেন,‘নির্বাচনটা বিলম্বিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় পাসপোর্টের আবেদন, জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদ পেতে কষ্টে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। এজন্য বলছি, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনটা হয়ে গেলে মানুষ কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।’

স্থগিত হওয়া চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ছয় জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। ছয় মেয়র প্রার্থী হলেন, আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ। তবে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে যথারীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যেই।

জেবি

RTVPLUS